টাইগাররা মাঠে নামছে আইরিশদের বিপক্ষে

নিউজ ডেস্ক : টম লাথামকে মুশফিকুর রহীমের হাতে ক্যাচ বানিয়ে রুবেল হোসেন কি বুনো উল্লাসে মাততে চাইলেন? ঠিক ২০১৩ সালে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পাওয়ার পর যেমনটা করেছিলেন। নাকি মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল ম্যাচের সার্বিক পরিস্থিতির কথা, এমন কি নিজের বর্তমান অবস্থানটার কথাও? আজকাল জাতীয় দলের জার্সিটাই তার গায়ে ওঠে না নিয়মিত। এই আছেন তো এই নেই। কিন্তু ওই টম লাথামকে ফেরানোর মতো আরো কয়েকটি উদযাপন যদি করতে পারতেন রুবেল! তবে কি বুধবার রাতে কালবোশেখী ঝড় ছাপিয়ে একরাশ সুখ উড়ে আসে না বাংলাদেশে?
রুবেল দুবার উইকেট উদযাপন করতে পারলেন। আইপিএলে হায়দ্রাবাদের বেঞ্চে সময় কাটিয়ে আসলেও মোস্তাফিজুর রহমান দুর্দান্ত বোলিং করলেন। কিন্তু রুবেলের সঙ্গে কাটার মাস্টারের ২ উইকেটও যথেষ্ট হলো না। নিউজিল্যান্ডকে ২৫৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ হারলো ৪ উইকেটে। তবে রানটাই কি কম হয়ে গিয়েছিল? তিন তিন জন ব্যাটসম্যান ফিফটি পেলেও দলের স্কোরটা যে ২৮০ বা এক কাছাকাছিও হলো না। নিউজিল্যান্ডকে ঘরের মাঠে দুই-দুবার ধবল-ধোলাই করলেও বিদেশের মাটিতে তাদের বিপক্ষে জয়টা অধরাই থেকে গেল।
অবশ্য এই আক্ষেপ বা হতাশা নিয়ে পড়ে থাকার সময় কই। একদিন বিরতি দিয়েই শুক্রবার সিরিজে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হয়ে আসছে আয়ারল্যান্ড। যাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তাই প্রথম জয়ের সন্ধানে নামতে হচ্ছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলকে। ডাবলিনে যে ম্যাচটি শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে।
এক থেকে পরাজয়ের সংখ্যা দুইয়ে চলে গেলেই মনে হয় জয়ের খরাটা বুঝি কতোকালের! বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন ঠিক সেই জায়গাটাতেই দাঁড়িয়ে। ষোল কোটি মানুষের আবেগ, উল্লাস, হাসি-কান্নার নাম ‘ক্রিকেট’। বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হার ওয়ানডেতে টাইগারদের টানা দ্বিতীয় পরাজয়। (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের সর্বশেষ ম্যাচে হার। এরপর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়।) টানা দুই ম্যাচ হারের পর শুক্রবার আইরিশদের বিপক্ষে তাই জয়ের কক্ষপথে ফেরার ম্যাচ। যে ম্যাচে অপ্রত্যাশিত কিছু হলে আবার বড় ক্ষত হয়েই আসবে তা। ২০০৭ বিশ্বকাপ ও ২০০৯ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারের বেদনায় পুড়তে হয়েছিল টাইাগারদের। এরপর থেকেই আয়ারল্যান্ড মানে একটা ভয় থাকেই। যদিও দলটার বিপক্ষে ওয়ানডেতে মোট ৮ ম্যাচের ৫টিতেই জিতেছে টাইগাররা (২টি হার, ১টি পরিত্যাক্ত)। আছে ঢাকায় হোয়াইটওয়াশ করার সুখস্মৃতিও। আর আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশটির বিপক্ষে বাংলাদেশের হারের স্মৃতিটাও বেশ আগের। সেই ২০১০ সালে।
তবে সব কিছু ভুলে জয়ের জন্যই বাংলাদেশ দল আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে। কন্ডিশন আর সব বাধা পেরিয়ে দুই ম্যাচ পরই ফিরতে চাইবে জয়ের পথে। তাতে এগিয়ে আসা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য আত্মবিশ্বাসটাও বাড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপার তো থাকেই।

Comments

comments

LEAVE A REPLY