তারেক শামসুর রেহমান: নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মিয়ানমারের তথাকথিত গণতন্ত্রী নেত্রী অং সান সু চি গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা মিথ্যাচারে ভরা। লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের বাংলাদেশে আশ্রয়, তাদের ওপর অত্যাচারের করুণ কাহিনিতে সারা বিশ্বের মানুষ যখন প্রতিবাদমুখর ও গণহত্যার দায়ে তার এবং সেই সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় সেনা কমান্ডারদের বিচারের দাবি এখন জোরদার হচ্ছে, তখন সু চি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। বিশ্বের সর্বত্র তার ভাষণের ব্যাপারে আগ্রহ ছিল। তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যার ব্যাপারে কী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তার কর্মসূচি কী, এসব ব্যাপারে তাদের আগ্রহ ছিল। তাই তার ভাষণ নিয়ে সর্বত্র একটা আগ্রহ তৈরি হলেও তিনি হতাশ করেছেন। এমনকি বিবিসির সাংবাদিকরা পর্যন্ত তিনি রোহিঙ্গা নির্যাতন প্রশ্নে মিথ্যা কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। মনে হচ্ছে সেনা শাসকরা যা তাকে গিলিয়েছেন, তিনি তাই বলেছেন। তিনি তার ভাষণে মূল যে কথাগুলো বলেছেন, তা অনেকটা এ রকম : ক. ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সামরিক বাহিনীর অভিযান বন্ধ রয়েছে, খ. রাখাইনে সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা আছে, গ. ৫০ ভাগ রোহিঙ্গা পালিয়েছে, ঘ. মুসলমানদের মিয়ানমার থেকে দলে দলে পাঠানো রহস্যময়, ঙ. রাখাইনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেওয়া হবে ইত্যাদি। এসব বক্তব্যের মধ্যে সত্যতা আছে কতটুকু? পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিই ঐতিহাসিকভাবেই রাখাইন স্টেটের মানুষ রোহিঙ্গা নামে পরিচিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা স্বীকৃতও বটে। কিন্তু সু চি একবারও তার ভাষণে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি। তিনি বলেছেন, বাঙালি ও মুসলমান। এর অর্থ হচ্ছে তিনি তার অবস্থান এতটুকুও পরিবর্তন করেননি। তাহলে এ সমস্যার সমাধান হবে কীভাবে? তিনি ‘যাচাই-বাছাই’ সাপেক্ষে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন! কিন্তু তা সম্ভব কীভাবে? যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকের কাছেই নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনো কাগজপত্র নেই। তা হলে তাদের নাগরিকত্ব সু চি সরকার নিশ্চিত করবে কীভাবে? এটা একটা ভাঁওতাকাজি। ‘লোক দেখানোর’ নামে হয়তো আগামীতে কিছু শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। কিন্তু অনেককেই তারা নেবে না। ফলে উখিয়া, টেকনাফে যে বিশাল রোহিঙ্গা জনবসতি গড়ে উঠছে, তারা অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোয় থাকতে বাধ্য হবে বছরের পর বছর! ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেনা অভিযান বন্ধ রয়েছে বলে যে কথা সু চি বলেছেন, তা সর্বৈব মিথ্যা। কেননা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও বিবিসি কিংবা আলজাজিরা যেমন সংবাদ প্রচার করেছে, তাতে স্পষ্ট দেখা গেছে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তা হলে সু চির বক্তব্যের পেছনে সত্যতা থাকল কোথায়? রাখাইনে সবার জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্যের সুবিধা আছেÑ দাবি করেছেন সু চি। এটা যে কত বড় মিথ্যা কথা, তা রোহিঙ্গা কিশোর-কিশোরীরা যে সাক্ষাৎকার দিয়েছে, তাতেই প্রমাণিত হয়েছে। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে করুণ কাহিনি, যেখানে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের অন্যদের থেকে আলাদা করা হয়েছিল। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষাপাঠ শেষ হওয়ার পর কোনো রোহিঙ্গাকেই আর মাধ্যমিক কিংবা উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হতো না। এরা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যেতে পারত না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া তো চিন্তাও করা যায় না! এমনকি বিয়ে করার জন্য এদের অনুমতি নিতে হতো। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, রাখাইন অঞ্চলে ২১৪টি গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবি তুলে দেখিয়ে দিয়েছে আগে ওই সব গ্রামে কী অবস্থা ছিল, আর এখন কী অবস্থা হয়েছে। তাহলে সু চির কথায় যুক্তি থাকে কতটুকু? শতকরা ৫০ ভাগ মুসলমান পালিয়েছে, তাদের পালানো রহস্যজনকÑ এ কথা বলছেন সু চি! জীবন রক্ষার্থে যিনি এবং যারা দিনের পর দিন, না খেয়ে, পাহাড় অতিক্রম করে শুধু বেঁচে থাকার আশায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা কেন পালাবে? তাদের তো বাধ্য করা হয়েছে। এই ‘বাধ্য করার’ বিষয়টিকে সু চি আখ্যায়িত করেছেন ‘পালানো’ হিসেবে। আমার দুঃখ লাগে এই মানুষটির জন্য, যখন তিনি দেশে অন্তরীণ ছিলেন, তখন বাংলাদেশের মানুষ তার মুক্তি দাবি করেছে। তার জন্য প্রার্থনা করেছে। তাকে নিয়ে আশাবাদী হয়েছে। অথচ তিনি যে একজন সাম্প্রদায়িক মানুষ, প্রচ- মুসলমানবিদ্বেষী মানুষ, তা আমরা প্রথম জানতে পেরেছিলাম যখন তিনি অন্তরীণ অবস্থা থেকে মুক্তি পান। সেই ২০১৫ সালের কথাÑ তিনি তখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন, কখনো তিনি স্বীকার করে নেননি রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। পাঠক, সাব্রা ও সাতিলার (ংধনৎধ ধহফ ংযধঃরষধ) হত্যাকা-ের কথা কী আপনাদের মনে আছে? গাজায় ছিল সাব্রা ও সাতিলা ক্যাম্প, যেখানে ফিলিস্তিনিরা বাস করত। ওই ক্যাম্পে ইসরায়েলিরা বোমা হামলা চালিয়ে দুই হাজারজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছিল। বিশ্বব্যাপী এর প্রতিবাদ উঠেছিল। ১৯৮২ সালের ১৬-১৭ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার জন্য পরে ইসরায়েল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়। তদন্ত কমিটি তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। শ্যারন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেব্রেনিসকা (বসনিয়া) হত্যাকা-ের (১৯৯৫ সালের ১১-১৩ জুলাই) খবর মনে আছে? ৮ হাজার ৩৭৫ জন মুসলমানকে হত্যা করেছিল বসনিয়ার সার্ব যুদ্ধাপরাধীরা। এ জন্য তাদের (সার্ব সেনা কমান্ডার) বিচার হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (হেগে অবস্থিত)। আজকে রাখাইনে সেনাবাহিনী যে অত্যাচার, নির্যাতন আর হত্যাকা- চালিয়েছে, তার সঙ্গে সাব্রা-সাতিলা কিংবা সেব্রেনিসকার গণহত্যার কোনো পার্থক্য নেই। সু চি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাখাইনে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। আলজাজিরার প্রতিবেদনে তাই বলা হয়েছেÑ ‘ঝঁঁ শুর নঁৎুরহম যবধফ রহ ংধহফ ড়াবৎ ৎড়যরহমুধ পৎরংরং’Ñ অর্থাৎ রোহিঙ্গা সংকটে সু চি বালির মধ্যে মাথা গুঁজে দিয়ে এই সংকটটা না দেখার ভান করেছেন। সু চি তার ভাষণে প্রথম দিকেই বলেছেন, ‘ডব পড়হফবসহ ধষষ যঁসধহ ৎরমযঃং ারড়ষধঃরড়হ’Ñ অর্থাৎ তারা সব ধরনের মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা করেন! কী মিথ্যাবাদী এই অং সান সু চি? একটি বারের জন্যও তিনি রাখাইনে যে হত্যাকা- হয়েছে, তার সমালোচনা করেননি। তিনি শুধু মিথ্যাবাদীই নন, ভ-। প্রতারক। এ জন্যই এসব গণহত্যার বিচার হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক জায়গায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠিত হয়েছিল। এ আদালত এখনো কাজ করছেন।আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্পর্কে যারা খোঁজখবর রাখেন, তারা জানেন পৃথিবীর কোন কোন দেশে যেখানে গণহত্যা হয়েছে, সেখানে এ ধরনের ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক কঙ্গোয় ২০০৪ সালে, কম্বোডিয়ায় ২০০১ সালে এ ধরনের ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিচার করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই বিচারকার্য এখনো চলছে। আজ মিয়ানমারে যে জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান তথা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তা খোদ বাংলাদেশেই নয়, বরং জাতিসংঘও একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা জেইদ রা’দ আল হুসেই’ন জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গা হত্যাকা-কে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, “এই পাশবিকতার ঘটনা পাঠ্যপুস্তকের জন্য ‘জাতিগত নির্মূলের’ একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।” রয়টার্স জনাব হুসেইনের বক্তব্য উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী থিংক ট্যাংক ‘কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনস’-এর এক প্রতিবেদনে (গুধহসধৎ, ঈধসনড়ফরধ ধহফ ঃযব ড়ভভড়ৎঁহরঃু ভড়ৎ ঃযব ঁ.ঝ. ঈড়হমৎবংং, ঝবঢ়ঃবসনবৎ ০৭, ২০১৭) বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ব্যাপারে জাতিসংঘের সিরিয়াসলি কিছু করা উচিত। প্রতিবেদনে সিনেটর ম্যাককেইন ও কংগ্রেসম্যান এডওয়ার্ড রয়েস অং সান সু চিকে যে সহিংসতা বন্ধে চিঠি লিখেছেন, তা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে মিয়ানমারে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বন্ধ এবং একই সঙ্গে কংগ্রেসে রোহিঙ্গা প্রশ্নে একটি শুনানি আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়। রোহিঙ্গাদের যখন ঢল নামছে, তখন বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছে রোহিঙ্গাদের জন্য আরাকানে একটি ‘সেভ জোন’ প্রতিষ্ঠা করার, যেখানে শান্তিরক্ষা বাহিনী (জাতিসংঘ) রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেবে। প্রধানমন্ত্রী ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সেফি উবার্টকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ সৃষ্টি করা উচিত। আর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গৃহীত এক প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিয়ে নিরাপদে নিজ দেশে বসবাস করার সুযোগ করে দিতে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ দেওয়ার একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বর। তবে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যটি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সরকারের একজন শীর্ষ মন্ত্রী যখন ‘গণহত্যা’র কথা বলেন, তখন ধরে নিতে হবে এটাই সরকারি ব্যাখ্যা! এবং সরকারি অবস্থান! তাহলে সরকার এখন এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিয়ে কী করবে? প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ওআইসি কন্ট্র্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ছয় দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এগুলো অনেকটা এ রকমÑ ১. রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা, ২. একটি নিরাপদ এলাকা বা ‘সেভ জোন’ প্রতিষ্ঠা করা, ৩. বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা যাতে নিজ বাসভূমে ফিরতে পারে, সে ব্যবস্থা করা, ৪. কফি আনান কমিশনের প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ৫. রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রপাগান্ডা বন্ধ করা, ৬. রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে না ফেরা পর্যন্ত তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা। এটি একটি যুগোপযোগী প্রস্তাব। তবে আমি খুশি হতাম যদি ওই প্রস্তাবের সঙ্গে আরও একটি প্রস্তাব থাকত, যেখানে বাংলাদেশ গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করত। এটি একটি ন্যায্য দাবি। আমার ধারণা, ওআইসির দেশগুলো গণহত্যা বিচারের দাবিকে সমর্থন করবে। আমরা বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। সেই বিচার এখনো চলছে। বিশ্বের যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, বাংলাদেশ তার সমালোচনা করেছে। এখন সু চি রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রশ্নে ভুল তথ্য দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য খ-ন করার দায়িত্ব বাংলাদেশের। বাংলাদেশ তথ্য-প্রমাণসহ কূটনৈতিক চ্যানেলে রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত কারণ তুলে ধরতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের রাখাইনে যাওয়ার দাবিও বাংলাদেশ করতে পারে। সেই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধ খতিয়ে দেখার জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইচসিআর যাতে একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করতে পারে, সে ব্যাপারটির ব্যাপারেও বাংলাদেশ জোর দিতে পারে।

বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের সহানুভূতি অর্জন করেছে। কিন্তু এটা যে একটা নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে, তা আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে থাকতে পারে না। তাই সু চির এই মিথ্যাচারের শুধু প্রতিবাদই নয়, বরং এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্যও বাংলাদেশকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এ জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও তৎপর হতে হবে। আমাদের ব্যর্থতা রোহিঙ্গাদের একটি অনির্দিষ্টকালের জন্য এই অঞ্চলে ‘স্থায়ী’ বসবাসের সুযোগ করে দিতে পারে, যা কিনা পার্বত্যাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন একটি মাত্রা এনে দিতে পারে ভবিষ্যতে।ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র
ড. তারেক শামসুর রেহমান : প্রফেসর ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × four =