ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটায় ৪ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই কলেজের নৈশ প্রহরী জাহাঙ্গীরকে গত শুক্রবার রাতে ডিবি পুলিশ আটক করে।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার এবং রবিবার (১২ নভেম্বর) পর্যাক্রমে ৪ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রুহি আনান দানিয়াল (২২), সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট (২১), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম রায়হান (২০), উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো: মাহমুদ (১৯) এবং নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর হেসেন (৪৪)।

গত ১০ আগষ্ট পাথরঘাটা ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম পার্শ্বের একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পাথরঘাটা থানা পুলিশ।

ধর্ষণ পূর্বক ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটির সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে ডিবি পুলিশ বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালাতে থাকে বলে সাংবাদিকদের জানান বরগুনা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাতে ডিবি পুলিশ প্রথমে ওই কলেজের নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীরকে আটক করে। শনিবার (১১ নভেম্বর) জাহাঙ্গীরকে পুলিশ হাজির করে পাথরঘাটা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে। আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

এরপরে পুলিশের হাতে আটক হয় ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ ও মাহিদুল ইসলাম রায়হান। তাদেরকে রবিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে পাথরঘাটা আদালতে হাজির করা হয়। এই দুই ছাত্রনেতার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তৃতীয় দফায় গ্রেফতার করা হয় পাথরঘাটা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রুহি আনান দানিয়াল ও সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ছোট্ট কে।

পুলিশ ওই হতভাগ্য তরুণীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দেয়া স্বীকারোক্তিতে রায়হান ও মাহমুদ হত্যা এবং লাশ গুম করার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা বলেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে পুলিশ।

পাথরঘাটা পৌর শহরের কে. এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনের ডোবায়, টিএন্ডটি অফিসের ডোবায়, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন দিঘিতে, বাগানে, ধানক্ষেতে, থানার আশেপাশে অনেক মৃতদেহের কোনোটির-ই পরিচয় মিলেনি গত দু’বছরে। পাথরঘাটার সুশীল সমাজের প্রশ্ন এই মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে।

উল্লেখ্য তরুণীকে গণধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুম করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত চার ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকালে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সুপারিশে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাদের বহিষ্কার করে।

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: জুবায়ের আদনান অনিক বিডি২৪লাইভকে জানান, গ্রেফতারের পর ওই চার নেতাকে নিয়ে রবিবার (১২ নভেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের। পরে রাতেই তাদের দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ পত্র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাদের দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

মোঃ আসাদুজ্জামান

বরগুনা প্রতিনিধি

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 + twelve =