বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা সময় ছিল যখন কোনো ম্যাচ জিততে ক্রিকেটের সব বিভাগেই ভালো করতে হতো। মানে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং—এ তিনটি জায়গায় খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে জ্বলে না উঠলে ম্যাচ জেতা হতো না। দিন বদলানোর সঙ্গে খেলার এই ধারাও পাল্টেছে। এখন বোলিং খারাপ হলেও ব্যাটসম্যানরা প্রায়ই পুষিয়ে দিচ্ছেন। কিংবা তার উল্টোটা ঘটছে। আজ বোলাররা যেমন ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন না পেয়েও জিম্বাবুয়েকে কোনোরকম পাত্তাই দিলেন না!

গ্রায়েম ক্রেমারের এই দলটি ফ্লাওয়ার ভাইদের সেই জিম্বাবুয়ে না হলেও একেবারে খারাপ নয়। এ টুর্নামেন্টেই শ্রীলঙ্কা হেরেছে তাদের কাছে। এমন দলের সামনে ২১৭ রানের লক্ষ্য সব সময়ই অনিরাপদ। কিন্তু বাংলাদেশের এই সাদামাটা স্কোরই জিম্বাবুয়ের জন্য ‘দূরের বাতিঘর’ করে ফেললেন বোলাররা। মাশরাফি-সাকিব-সানজামুল-মোস্তাফিজদের বোলিংয়ে ৩৬.৩ ওভারে মাত্র ১২৫ রানেই অলআউট জিম্বাবুয়ে। ৯১ রানের এই বড় জয়েই অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির রেকর্ডটা হলো।

ওয়ানডেতে ৫৩ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩০ ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মাশরাফি। এ টুর্নামেন্টের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জয় ছিল হাবিবুল বাশারের। ৬৯ ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৯টি জয় এনে দেওয়া বাশার আজ পিছিয়ে পড়লেন।

২১৬ রানের কম করে বাংলাদেশ এর আগে জিতেছে মাত্র তিনবার। এর মধ্যে ঘরের মাঠে দুইবার এবং বিদেশে একবার। ২০১০ সালে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ১৭৪ রান করেও ৩ রানের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরের বছর একই ভেন্যুতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৫ রান করেও এসেছিল ২৭ রানের জয়। আজ সেই শেরেবাংলাতেই হলো চতুর্থ সর্বনিম্ন রান করে জয়, যেখানে মোস্তাফিজুর রহমানের কথা আলাদা করে বলতেই হবে।

১৪তম ওভারে মোস্তাফিজ যখন বোলিংয়ে এলেন জিম্বাবুয়ের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৫১। এখান থেকে যে তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ যে ছিল না তা নয়। কিন্তু এই ‘কাটার-স্লোয়ার’ বিশেষজ্ঞ পেসার জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলেছেন টানা ২৩টি ‘ডট’ দিয়ে! এর মধ্যে মেডেন টানা তিন ওভার! চতুর্থ ওভারও মেডেন হতো যদি শেষ বলে পিটার মুর সিঙ্গেল না নিতেন। বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো সিকান্দার রাজাকে (৩৯) এবং শেষ উইকেট কাইল জার্ভিসকে ফিরিয়ে জয়েও দারুণ ভূমিকা রেখেছেন মোস্তাফিজ।

আরও পড়ুনঃ   অবশেষে লিস্টারে যোগ দিলেন সিলভা

মোস্তাফিজের এই ‘হাড় কিপটে’ বোলিংয়ে ভীষণ চাপে পড়া জিম্বাবুয়ে সানজামুল ইসলামকে দিয়েছে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ। কিন্তু সানজামুল পারেননি। ২৩তম ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেছিলেন পিটার মুর ও ম্যালকম ওয়ালারকে। কিন্তু পরের বলটি হাফভলি লেংথে করে হতাশ করেন সানজামুল।

সানজামুল-মোস্তাফিজের আগে বাংলাদেশের ২১৬ রানের পুঁজিকে জয়ের জন্য যথেষ্ট করে তোলার পথটা সহজ করে দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান। শুরুটা করেছিলেন মাশরাফি। চতুর্থ ওভারেই হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে স্লিপে সাব্বিরের তালুবন্দী করেন। এরপর ১০তম ওভারে ক্রেগ আরভিনকেও ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক। এবারও সেই স্লিপ, আর ক্যাচ ধরেছেন সেই সাব্বির-ই!

মাশরাফির এই জোড়া আঘাতের মাঝে সাকিবও জোড়া আঘাত হানেন। ইনিংসের সপ্তম ওভারে তাঁর পঞ্চম ডেলিভারিটি পড়তে পারেননি সলোমন মিরে। বলটি কিছুটা থেমে নিচু হয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। পরের বলেই ব্রেন্ডন টেলরকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন সাকিব। কিন্তু তাঁর পরের ওভারের প্রথম বলটি স্টাম্পের বাইরে থাকায় জিম্বাবুয়ের আর কোনো বিপদ হয়নি। শেষ দিকে চাতারাকেও তুলে নেন সাকিব। টানা তিন ম্যাচে তাঁর শিকার ৩টি করে উইকেট!
এ হারে জিম্বাবুয়ের বিপদ আরও ঘনীভূত হলো। এখন তাঁদের ফাইনালে ওঠাই অনিশ্চিত। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ফলে তাকিয়ে থাকতে হবে ক্রেমারের দলকে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three + twelve =