জাহিদুল ইসলাম জন:

লেবাননের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এক অনির্ধারিত সফরে দেশটির রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে লুভ্যর মিউজিয়ামের একটি শাখা উদ্বোধন শেষে তিনি সৌদি আরবে পৌঁছান।

ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের মিত্র লেবানন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের উপনিবেশ থেকেই স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। আর গত সপ্তাহে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি জীবন শঙ্কার কথা জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর এই অনির্ধারিত সফরে সৌদি আরব আসলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

লেবানানসহ ওই অঞ্চলে অস্থিরতার জন্য সৌদি আরব আর ইরান পরস্পরকে দায়ী করছে। এমন প্রেক্ষাপটে দুই ঘন্টার সফরে রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট। বৈঠকের পর তিনি বলেন, সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকে লেবাননের অখন্ডতা আর স্থায়ীত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।

ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেন, আমি চাই লেবাননের সব রাজনৈতিক নেতা স্বাধীনভাবে বাঁচবে।

গত সোমবার রিয়াদের কাছে ইয়েমেনের হিজবুল্লা বিদ্রোহীদের একটি মিসাইল ধ্বংসের দাবি করে দেশটির ওপর অবরোধ জোরদার করে সৌদি আরব। এই গোষ্ঠীটিকে ইরান মদদ দিয়ে আসছে বলে দাবি সৌদি কতৃপক্ষের।

এদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার করে ইয়েমেনে ত্রাণ পৌঁছাতে না দিলে কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারাতে পারে কয়েক লাখ মানুষ।
এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সৌদি নাগরিকদের লেবানন ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, তার সঙ্গে সাদ হারিরির একটি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। গত শনিবার নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কায় পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর তার তরফে আর কোন বার্তা দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি সৌদি আরবে রয়েছেন। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া টিভি বার্তায় সাদ হারিরি ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ বিদ্রোহীদের কঠোর সমালোচনা করেন।

সাদ হারিরির বাবা লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি ২০০৫ সালে এক বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন। ওই হামলার জন্যও হিজবুল্লাহকেই দায়ী করা হয়ে থাকে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

twelve + eleven =