ভারতের সুপ্রিমকোর্ট গতকাল বুধবার এক রায়ে বলেছেন, বিবাহিত স্ত্রীর বয়সও আঠারো বছরের কম হলে তার সাথে যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। খবর বিবিসি।এদিকে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারতীয় দ-বিধির ৩৭৫ ধারায় যে ধর্ষণের সংজ্ঞা রয়েছে, সেখানে একটি ছাড় দিয়ে বলা হয়েছে যে স্ত্রীর বয়স যদি ১৫ বছরের কম না হয়, তা হলে স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা হবে না। অথচ, শিশুদের ওপরে যৌন নিগ্রহ রোধ আইন অনুযায়ী কোনো নারী ১৮ বছরের আগে শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি দেওয়ার অধিকারী নন। ধর্ষণ সংক্রান্ত আইন আর শিশু যৌন নিগ্রহ আইনের মধ্যে যে ফারাক ছিল, বুধবার সুপ্রিমকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এ রায়ে তা দূর হল বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিবিসি।

‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট থট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল যে, ভারতীয় দ-বিধিতে ১৫ বছরের বয়সসীমা বেঁধে দিয়ে বিয়ের পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জীবনের অধিকারের পরিপন্থী। বৈবাহিক ধর্ষণ, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কোন পর্যায়ে ধর্ষণ বলে চিহ্নিত হবে, তা নিয়ে ভারতে মতবিরোধ আর বিতর্ক চলছে।দিল্লি­ হাইকোর্টে একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জমা দেওয়া নিজেদের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে যে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কোনোভাবে ধর্ষণের পর্যায় পড়তে পারে না। সেটি করা হলে বিবাহ নামক ব্যবস্থাটিকেই অস্থির করে তোলা হবে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen − five =