মাঝে মাঝে সুশীলদের আচরণ দেখে গাধার কথা মনে পড়ে যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  আমাদের দেশের জনগণের কাছে যেতে পারেন না। ভোটের রাজনীতিতে তারা অচল। ভোটে রাজনীতি করতে হলে জনগণের ভোট পেতে হয়। ভোট পেয়ে এই সংসদে বসতে হয় ও সরকার গঠন করতে হয়। কিন্তু এই একটা শ্রেনী আছে তারা কিন্তু জনগণের কাছে যেতে চায় না। তারা ক্ষমতার বাকা পথ খুঁজে।

প্রধানমন্ত্রী সুশীল সমাজের কড়া সমালোচনা করে বলেন, কিছু লোক সব সময় থাকে যদি অবৈধভাবে বা মার্শাল ‘ল’ জারির মাধ্যমে  কোনো পক্ষ ক্ষমতায় আসে আর সেই সুযোগে যদি তাদের গুরুত্ব বাড়ে। আর ক্ষমতাধররা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য কিছু লোককে খুঁজে নেয়। আর কিছু লোক আছে নিজেদেরকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকেন। তারা গায়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে বসে থাকেন ইউজ মি অর্থাৎ আমাকে ব্যবহার কর। এসব সুশীলদের নিয়ে একটি গাঁধার গল্প শোনান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি ও জাতয়ি পার্টি দলীয় এমপি ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসবকথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্য। কিছু লোক আছে চোখে দেখেও দেখে না, কানেও শোনে না। যারা চোখ থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধির তারা সরকারের কোনো উন্নয়নই দেখতে পায় না। গানেই তো আছে হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ। তাদের ব্যপারে কোন কথা বলে লাভ নেই।  আমাদের লক্ষ্য একটাই মানুষ ভাল আছে কি না? তিনি বলেন, আমি জানি না সুশীলের ব্যাখাটা কি, অর্থ কি বা কিভাবে কোন তত্বের ভিত্তিতে তারা সুশীল, সেটা তখন দেখা দেয় যখন তারা কোন কিছু দেখেনও না শোনেনও না, বোঝেনও না। তারা সুশীল না অসুশীল তা আমি জানি না। তিনি আরো বলেন, একটা শ্রেণী আছে তাদের খুব আকাংখা ক্ষমতায় যাবার। তাদের আকাংখা একটা পতাকা পাবার। তবে তারা জনগণের কাছে যেতে চান না। যদি আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অনুসরণ করতে চাই, গণতন্ত্রকে আমরা গুরুত্ব দেই, গণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। তাহলে অবশ্যই জনগনের কাছে যেতে হবে। একটা শ্রেণী আছে তারা জনগণের কাছে যেতে চায় না। তারা বাঁকা পথ খোঁজে। কারণ ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির শুরু হয়। তিনি বলেন, সুশীলরা সবসময় একটা আশায় বসে থাকে এধরনের  অসাংবিধানিক পথে যদি কোনো ক্ষমতাধর আসে বা ইমারজেন্সি দিয়ে অধবা মার্শাল ‘ল’ দিয়ে যদি কেউ ক্ষমতা দখল করে তখন তাদের একটা গুরুত্ব বাড়বে এবং তারা তখন একটা পতাকা পাবে এবং ক্ষমতায় যেতে পারবে। তাদের এই যে না দেখাটা এটাও কিন্তু ওই ধরনের একটা অসুস্থতা তারা যেন তাদের দৃষ্টি রয়ে গেছে অবৈধ ক্ষমতা দখলের ভেতরে।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, গাড়ি একজনই চালায়, তবে সঠিকভাবে চালাতে হবে। নৌকা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একজন মাঝি লাগে। সেই মাঝি যদি সঠিকভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় বা পারে তাহলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে। আর যদি সঠিকভাবে না চালাতে পারে তাহলে কিন্তু মাঝখানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি দেশ পরিচালনা তো আর কেউ এককভাবে করতে পারে না। তবে হ্যাঁ, একজনকে তো উদ্যোগ নিয়ে, ভালো-মন্দ সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েই চলতে হয়। আমি সব সময় চেষ্টা করি সবাইকে নিয়েই চলতে, সবাইকে নিয়েই চলবো। তবে এখানে একটা কথা আছে, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে।
তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের, দেশের সমষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোঁয়া যেন প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়। তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছাক সেটাই আমরা চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই অর্জন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি বলে সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ   খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকার মামলা করেনি, হস্তক্ষেপও নেই : সেতুমন্ত্রী

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − 8 =