প্রথমেই কয়েকটি অজুহাত আলোচনা করে নেওয়া যাক। প্রথমত, সাকিব আল হাসান দলে নেই। দ্বিতীয়ত, উইকেট এমন ফ্ল্যাট, তাতে ব্যাটসম্যানরা এখানেই বাড়িঘর বানিয়ে থেকে যেতে পারেন। তৃতীয়ত, ভাগ্য নামক ব্যাপারটা নামের আগে কেবল ‘দু’ উপসর্গ যোগ করেই বাংলাদেশের সঙ্গী হচ্ছে। সে জন্যই হয়তো এমন এক দিন কাটাতে হলো বাংলাদেশকে। কেমন দিন?

আজ তৃতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৩ উইকেটে ৫০৪ রান। বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ৯ রান পিছিয়ে সফরকারীরা, ৭ উইকেট হাতে রেখেই। আজ ৩১৭ রান তুলতে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ২ উইকেট হারাতে হয়েছে। অর্থাৎ ওভারপ্রতি ৩.৫২ রান করেছে সফরকারীরা। প্রথম দুই দিনের রান রেট বিবেচনা করলে বেশ ভালো। কিন্তু উইকেটটা তৃতীয় দিনের—এটা মাথায় রাখলে, অতটা নয়।

স্পিন–বান্ধব উইকেটের আশায় দুই দলই নেমেছে তিন স্পিনার নিয়ে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বলে একটু–আধটু ঘূর্ণি দিয়েছিলেন বটে রঙ্গনা হেরাথ। সেটা দেখে উইকেটের রহস্য উন্মোচিত হচ্ছিল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু পরের পাঁচ সেশন নিশ্চিত করল, ওই ঘূর্ণি কিংবা বাঁক পিচের কল্যাণে নয়, প্রায় বিশ ছুঁই ছুঁই বছরের টেস্টে ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাতেই সম্ভব হয়েছিল। তাই বলে এভাবে বোলিং করতে হবে সানজামুল-তাইজুলদের!

বাংলাদেশের বাঁ হাতি স্পিনারদের বল অবলীলায় লেগ সাইডে খেলেছেন মেন্ডিস-ধনঞ্জয়ারা। স্পিনে ধোঁকা খেয়ে মাঝেমধ্যে যে ‘আহা-উহু’ শোনা যায়নি তা নয়। কিন্তু সেটা এতই অনিয়মিত ছিল যে ব্যাটসম্যানদের কখনো রক্ষণাত্মক হতে হয়নি। লিটন দাসের স্টাম্পিং মিস কিংবা স্লিপের ফাঁক গলের বল চলে যাওয়া হতাশার পাল্লা শুধু ভারীই করেছে।

এর মাঝেই বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে ধনঞ্জয়া-মেন্ডিসের। শূন্য রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর তাঁদের ৩০৮ রানের জুটি টেস্ট ইতিহাসেই সর্বোচ্চ। এ পথে তাঁরা ভেঙেছেন ৯২ বছর আগের এক রেকর্ড। ১৯২৬ সালে লিডস টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ২৩৫ রানের জুটি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিল উডফুল ও চার্লস ম্যাকার্টনি।

আরও পড়ুনঃ   ফোর্বসের সেরা লাতিন সেলিব্রিটি 'মেসি'

দ্বিতীয় নতুন বলে মোস্তাফিজুর রহমানের শর্ট বলে মারতে গিয়ে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (১৭৩) আউট না হলে রেকর্ডটা আরেকটু লম্বা হতে পারত। ধনঞ্জয়ার আউটের পরও দলকে টেনে নিয়ে গেছেন কুশল মেন্ডিস। রোশন সিলভার সঙ্গে আরেকটি সেঞ্চুরি জুটি গড়েছেন। দলকে চার শ পার করানোর পর অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে হতাশ হতে হয়েছে তাঁকে। আরও একবার ডাবল সেঞ্চুরির গন্ধ পেতে পেতেও হাতছাড়া করেছেন। ১৯৬ রানের এই ইনিংসই মেন্ডিসের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ। তাঁর আগের ১৯৪ রানের ইনিংসটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে গল টেস্টে।

৪১৫ রানে তৃতীয় উইকেট তুলে নেওয়ার পরও ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন ইনিংসের ছোট টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন রোশন ডি সিলভা (৮৭*)। ফিফটির অপেক্ষায় আছেন অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল (৩৭*)।

স্কোরকার্ড

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস রান বল
করুণারত্নে ক ইমরুল ব মিরাজ
মেন্ডিস ক মুশফিকুর ব তাইজুল ১৯৬ ৩২৭ ২২
ধনঞ্জয়া ক লিটন ব মোস্তাফিজ ১৭৩ ২২৯ ২১
রোশন অপরাজিত ৮৭ ১৭৩
চান্ডিমাল অপরাজিত ৩৭ ৯০
অতিরিক্ত (বা ৭, লে বা ৩, ও ১) ১১
মোট (১৩৮ ওভারে, ৩ উইকেটে) ৫০৪
উইকেট পতন : ১-০ (করুণারত্নে, ২.৩ ওভার), ২-৩০৮ (ধনঞ্জয়া, ৮২.৫), ৩-৪১৫ (মেন্ডিস, ১০৪.৩)।
বোলিং : মোস্তাফিজ ২৫-৫-৮৮-১ (ও ১), সানজামুল ৩৭-২-১২৮-০, মিরাজ ১৯-০-৯৭-১, তাইজুল ৫১-১৩-১৪৪-১ , মোসাদ্দেক ৩-০-২৪-০, মুমিনুল ২-০-৬-০, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৭-০।                                       —তৃতীয় দিন শেষে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight − two =