হাঁটু ও চোখের চিকিত্সার জন্য তিন মাস লন্ডনে অবস্থান শেষে আজ বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ার-পারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি গতকাল অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হিথ্রো বিমান বন্দরের ৩ নাম্বার টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। আজ বিকাল সাড়ে ৫টায় হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছবেন। ঢাকা এবং কুমিল্লায় চার মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে প্রত্যাবর্তন করছেন বেগম জিয়া। দেশে ফিরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে জামিনের জন্য আত্মসমার্পণ করবেন। এখানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া অরফানেজ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে। দুই মামলাতেই শুনানির পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে আগামীকাল ১৯ অক্টোবর। গত ৯ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোলবোমা হামলার মামলায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ১২ অক্টোবর মানহানির একটি মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম এবং একই দিনে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল মামলার শুনানিতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালত।

এ দিকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার খবরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা। বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে। বিপুল উপস্থিতির মাধ্যমে চেয়ারপারসনকে বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। বিমান বন্দর থেকে বেগম জিয়ার গুলশানের বাসা পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান নেবেন।

গত ১৫ জুলাই খালেদা জিয়া ঢাকা থেকে যাত্রা করে ১৬ জুলাই লন্ডন পৌঁছান। সেখানে তার বড় পুত্র, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় থেকে গত ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় লন্ডনের ১৬২ সিটি রোডের মুরফিল্ডস আই হসপিটালে তার ডান চোখের সফল অপারেশন করান। চোখের চিকিত্সা শেষ হওয়ার পর লন্ডনে প্রখ্যাত বাতরোগ বিশেষজ্ঞ হ্যাডলি ব্যারির অধীনে হাঁটুর চিকিত্সা গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ গত রবিবার তার চিকিত্সা সম্পন্ন হয়।

ছেলে, দুই পুত্রবধূ, নাতনিদের সঙ্গে পারিবারিক আঙ্গিকে মুখরতায় ভরা তিন মাস সময় কাটিয়ে ঝরঝরে মুডে দেশে ফিরছেন বেগম জিয়া।

জানা গেছে, দেশে ফিরে জামিন নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মনোযোগ দেবেন বেগম জিয়া। সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণার পাশাপাশি সাংগঠনিক বিষয়গুলোতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির শূন্যপদ পূরণ ও কিছুটা রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দলের জেলা কমিটি ও অঙ্গ দলগুলোর পুনর্গঠন সম্পন্ন করবেন। এ দিকে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুদিনের সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফর করবেন। তার সঙ্গে খালেদা জিয়া বৈঠক করবেন।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বিমান বন্দরে বিপুল উপস্থিতির মাধ্যমে নেত্রীকে বরণ করতে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতারা গত দুদিন ধরে সে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ও মহানগরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। ঢাকার উপকণ্ঠভাগের জেলা গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শোডাউনে অংশ নেবেন।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 − 3 =