তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। স্বপ্ন দেখতে, দেখাতে ভালোবাসতেন। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সফল। নগর পিতার দায়িত্ব নিয়ে নতুন অনেক স্বপ্ন বুনেছিলেন ঢাকাবাসীর জন্য। শুরু করেছিলেন কাজ। ডুবে থাকতেন সেই কাজের মধ্যেই।

নিজের বাসাকে পরিণত করেছিলেন সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে। মাথায় ছিল একটি সুন্দর নগরী গড়ার চিন্তা। স্বপ্নদ্রষ্টা নগরপিতা আনিসুল হকের প্রয়ানে শোক সর্বত্র। শোকের মাতম চলছে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। শোকে স্তব্ধ নাগরিক সমাজ। দল-মত নির্বিশেষ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন তার মৃত্যুতে। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোক প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয় মেয়রের মৃত্যুতে।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোকাতুর সারাদেশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা শোক প্রকাশ করছেন যার যার ভাষায়।
আনিসুল হক ঢাকাকে বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেন। সেখানেও সফলতার কমতি ছিল না। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই শুরু করেন উত্তর সিটিকে নতুনভাবে সাজানোর। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, খাল উদ্ধারসহ পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যার অনেকটাই শুরু হয়েছিল। হয়তো সামনে আরো অনেক কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তার। হঠাৎ মৃত্যুতে আনিসুল হকের শুরু করা কাজের কী হবে, তা চলমান থাকবে কিনা এ নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন তার শুভানুধ্যায়ীরা। নিয়াজুল তায়েফ নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন- একজন সৎ-নির্ভীক সংগ্রামী নেতাকে হারালো জনগণ। তার অকাল মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। তন্ময় নামের এক চাকরিজীবী লিখেছেন- বড় অসময়ে চলে গেলে, যখন তোমার খুব বেশি দরকার ছিল। শেখার ছিল তোমার কাছ থেকে অনেক কিছু। আনিসুর রহমান সাব্বির নামের এক মিডিয়াকর্মী লিখেছেন, একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ এবং গ্রেট মোটিভেটর হিসেবে তাকে চিনতাম। ভাবতেই পারছি না সে মানুষটা আজ নেই। কামরুন ডেইজি নামের একজন লিখেছেন, বাংলার মানুষ আজ ভীষণ হতবাক, তোমায় হারিয়ে হে আনিসুল হক। মেহেরুন রুনা লিখেছেন, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে চলা এবং স্বপ্নকে প্রতিষ্ঠিত করা এক আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব, অর্থ সম্পদ, হৃদয়ে তারণ্য লালনকারী, বিদেশে উন্নত চিকিৎসা, কোটি মানুষের ভালোবাসা, কোনো কিছুই রুখতে পারেনি চলে যাওয়া। তবুও তার কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে। নুরুল আলম নামে একজন লিখেছেন- আনিসুল হক মেয়র, মানে আমরা একজন দেশপ্রেমিক ব্যক্তিকে হারালাম। যার মাঝে সততা, সহানুভূতি, মানবতা আছে আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন।
এদিকে সিটি করপোরেশনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সিটি করপোরেশনের সব কর্মীদের কাছে অতি প্রিয় ছিলেন মেয়র আনিসুল হক। তাদের জন্য নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং ভবিষ্যতে তা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন মেয়র। এসব স্মৃতিচারণ করে কাঁদছেন কর্মীরা। গতকাল ছুটির দিনেও সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে ছিল শোকাতুর নেতাকর্মীদের ভিড়।
আজ দাফন: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ আসছে আজ। সকাল সাড়ে ১১টার সময় মেয়রের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে। সেখানে তার আত্মীয়-স্বজন ও ডিএনসিসির কর্মকর্তারা মৃতদেহ গ্রহণ করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় লাশ নিয়ে যাওয়া হবে বনানীর বাসভবনে। বিকাল তিনটায় আর্মি স্টেডিয়ামে নেয়া হবে লাশ। সেখানে সর্বসাধারণের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে মেয়রের প্রতি। বিকাল ৪টায় আসরের নামাজ শেষে মেয়রের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে আনিসুল হকের মায়ের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। সেখানে মেয়রের মা ছাড়া শাশুড়ি ও ছোট ছেলে শারাফুল হকের কবর রয়েছে। এর আগে গতকাল জুমার নামাজের পর লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুনঃ   পছন্দের জীবনসঙ্গী না পাওয়ায় কুকুরকে বিয়ে!

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 + 4 =