সৌরভ মাহমুদ:

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা মোটেও ভালো যায়নি তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদের। শুধু তাসকিনেরই নয়, পুরো বাংলাদেশ দলকেই যেন অচেনা লাগছিল এই সফরে। দুঃস্বপ্নের সেই সফর শেষে দেশে ফিরেই সমর্থকদের অবাক করে দিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিন বিয়ে করেছেন – এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর যেন ঝড় বয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। বাজে সিরিজ, বাজে পারফরম্যান্স। এরপরও কিভাবে দেশে ফিরেই বিয়ে? এমন প্রশ্ন আর নানান সমালোচনা ধেয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশের এই স্পিড তারকার দিকে।

এতদিন অবশ্য চুপই ছিলেন তাসকিন। নতুন স্ত্রীকে নিয়ে একান্তে সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসর শুরু হয়ে যাওয়ায় বিয়ে পরবর্তী উদযাপনে খুব বেশি সময় পাননি চিটাগং ভাইকিংসের এই বোলার। দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিতে শনিবারই মাঠে নামেন তিনি। অনুশীলন শেষে মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির মাঠে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখিও হন তিনি। সেখানেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘আমি সিরিজে খারাপ খেলেছি তাই বলে বিয়ে করবো না?’

এ প্রসঙ্গে তাসকিনের ভাষ্য, ‘যখন আমি একদম ছোট তখন থেকেই আমি বাবা-মার বাধ্যগত সন্তান। এটা নিয়ে আমার বাবা-মার কোনো সন্দেহ আছে বলে আমার মনে হয় না। তো ওনারা চেয়েছে তাই বিয়েটা দ্রুত করা। আজ না হোক, কাল তো আমাকে করতেই হতো। এই জন্যই যেদিন এসেছি সেদিনই বিয়েটা হয়েছে। আর আরেকটা ব্যাপার, আমি সিরিজে খারাপ খেলেছি তাই বলে বিয়ে করবো না? এটা কোনো কথা নাকি? ক্রিকেট আমার জীবনের একটা অংশ। কিন্তু সবকিছু না।’

বিয়ের তিনদিন পরেই মাঠে। তবে অনুশীলনে দেখা গেল ভিন্ন এক তাসকিনকেই। বোলিং, ফিল্ডিংয়ে যেন অন্য এক তাসকিন। সতীর্থরাও খুনসুটি করতে ভোলেনি। অনুশীলনের সময় শোনা গেল সতীর্থরা বলছে, ‘বিয়ের পর তাসকিনের সবই ভালো হচ্ছে।’ যদিও গত কয়েকটি সিরিজ ধরেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন ২২ বছর বয়সী এই পেসার। নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও। তবে বিপিএল দিয়েই আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় তরুণ ডানহাতি এই পেসারের।

তাসকিনের স্ত্রীর নাম সৈয়দা রাবেয়া নাঈমা। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের জৈনপুরের পীর সৈয়দ এ এন এম মাহবুবুর রহমান ও আদর্শ ইসলামী মিশন মহিলা কামিল মাদ্রাসার সুপার সৈয়দা শামসুন নাহার বিলকিসের তৃতীয় কন্যা। মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে তাসকিনের সঙ্গে একই সাথে বেড়ে ওঠা। পছন্দের বিষয়টি অবশ্য তাসকিনের দিক থেকেই আগে ছিল। ক্লাসের নোট, সিলেবাসের উছিলা তৈরি করে নাঈমার সাথে দেখা করতে যেতেন। ধীরে ধীরে সম্পর্ক বর্ধিত হতে থাকে।

তাদের সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি পায় গত মঙ্গলবার। যদিও প্রিয় তারকার বিয়ের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হয় ব্যপক আলোচনা ও সমালোচনার। যদিও ফেসবুকে সমর্থকদের এমন আচরণ কেউই বিরক্ত নন তাসকিন-নাঈমা দম্পতি। এ প্রসঙ্গে তাসকিন বলেন, ‘ফেসবুক নিয়ে ও (নাঈমা) একদমই বিরক্ত না। ফেসবুক অনেক মানুষই ব্যবহার করে। এরমধ্যে অনেকে ভালো ফ্যামিলির আছে, অনেকে আছে ভালো ফ্যামিলির না বা শিক্ষিত না। তারা অনেক বাজেভাবে অনেক কিছু লিখতে পারে। এটা নিয়ে আসলে আমরা কৌতুহলী না যে কে কী লিখল।’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × three =