বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। কে হবেন মেয়র, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। পোস্টারে ছেয়ে গেছে বকশীগঞ্জ শহর। পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডেও চলছে প্রচারণা। নির্ঘুম রাত কাটছে প্রার্থীদের। আগামী বৃহস্পতিবার এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্রসহ ছয়জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সাধারণ কাউন্সিলর পদে আছেন ৫৮ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে আছেন ২১ জন প্রার্থী। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। নানা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন তারা।

নির্বাচন মূলত লড়াই হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শাহীনা বেগমের নৌকা, বিএনপির ফকরুজ্জামান মতিনের ধানের শীষ ও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম সওদাগরের জগ প্রতীকের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে ধারণা করা হচ্ছে। এ পৌরসভায় এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৩০ হাজার ৫৯১ ভোটার ভোট দেবেন।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শাহীনা বেগম ও বিএনপির প্রার্থী ফকরুজ্জামান মতিনের কর্মী-সমর্থকেরা দল ভাগ করে প্রতিদিন দিন নির্বাচনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শাহীনা বেগমকে জেতাতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের নেতারা প্রতিদিন গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং ভোট চেয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থী ফকরুজ্জামান মতিনের পক্ষেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। এ নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মর্যাদার লড়াই মনে করা হচ্ছে। তাই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে দুই দলের প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগে কোন্দলের কারণে অস্বস্তিতে রয়েছে নৌকার প্রার্থী শাহীনা বেগম। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল বিরাজ করছে আওয়ামী লীগে। তবুও মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম সওদাগর। বকশীগঞ্জ শহরের সওদাগর পাড়ায় তার বাড়ি হওয়ায় ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে এই প্রার্থীর। প্রতিদিন বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে মাঠে কাজ করছেন তিনি। জগ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ   চবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটি বিলুপ্ত

তবে নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা রয়েছে স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। জনগণকে নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে ভোট দেয়ার সুযোগ দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতীক দেখে নয় ব্যক্তিকে ভোট দেবেন তারা। যিনি বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকে তাকেই মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। যিনি মেয়র নির্বাচিত হয়ে বকশীগঞ্জকে এটি উন্নত পৌরসভায় রূপান্তর করবেন তাকেই নির্বাচিত করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার সচিব সব প্রার্থীদের সাথে মতিবিনিময় করেছেন।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুঞ্জুরুল আলম জানান, নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিপুলসংখ্যক ফোর্স, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করবেন।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 2 =