এমসিজিতে আজ শুরু হয়েছে ‘বক্সিং ডে’ টেস্ট, যেটা আবার অ্যাশেজের চতুর্থ ম্যাচ। এমন ম্যাচে টেস্ট অভিষেকের সুযোগ পেয়ে টম কুরান নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারেন। কিন্তু ইংলিশ পেসারটি নন, আসল ‘সৌভাগ্যবান’ ডেভিড ওয়ার্নার, কুরান স্রেফ ‘দুর্ভাগা’!

তা নয় তো কী? ম্যাচের তখন ৪১তম ওভার। কুরানের পঞ্চম ডেলিভারিটি খেলতে গিয়ে মিডঅনে ক্যাচ দেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ওয়ার্নার। ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেল এমসিজির স্বাগতিক গ্যালারি। ওয়ার্নার যে ৯৯ রানে আউট! তাঁর মতো ব্যাটসম্যান দিয়ে টেস্ট উইকেট শিকারের রোমাঞ্চকর যাত্রা শুরু করতে পেরে কুরান নিজেও আনন্দে উদ্বেলিত। কিন্তু ভুল ভাঙল ঠিক তখনই।

টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল কুরানের গোড়ালি বোলিং ক্রিজের দাগ অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ ‘নো বল’! ততক্ষণে উইকেট ছেড়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরা ওয়ার্নারকে তাই ফিরিয়ে আনেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। ‘জীবন’ পেয়ে ওয়ার্নার কিন্তু তাঁর ২১তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিতে মোটেও দেরি করেননি। অবশ্য আউটও হয়েছেন দ্রুত। ১০৩ রান করে জেমস অ্যান্ডারসনের শিকার হয়েছেন ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটা ছিল অ্যান্ডারসনের শততম টেস্ট উইকেট। ওয়ার্নারকে তুলে নিয়ে টেস্টে পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি কোর্টনি ওয়ালশকেও ছুঁয়ে (৫১৯ উইকেট) ফেললেন তিনি।

মাইলফলক ছুঁয়েছেন ওয়ার্নারও। ৫৯ ম্যাচে ৫৯০১ রান নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন মেলবোর্ন টেস্ট। ব্যক্তিগত ৯৯ রানে ওয়ালি হ্যামন্ডের সঙ্গে যুগ্মভাবে পঞ্চম দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ছুঁয়ে ফেলেন ৬০০০ রানের মাইলফলক। দুজনেরই ৭০ ম্যাচ লেগেছে। তাঁদের আগে রয়েছেন চার ‘বিগ ফিশ’—স্যার ডন ব্রাডম্যান (৪৫ ম্যাচ), স্যার গারফিল্ড সোবার্স (৬৫ ম্যাচ), সুনীল গাভাস্কার (৬৫ ম্যাচ), স্যার লেন হাটন (৬৬ ম্যাচ)।

কাকতালীয় ব্যাপার হলো, এমসিজিতে গত এক বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার সেঞ্চুরি করার পথে ‘নো বল’-এ ‘জীবন’ পেলেন ওয়ার্নার। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ‘বক্সিং ডে’ টেস্টেই ব্যক্তিগত ৮১ রানে ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ‘ওভারস্টেপিং’ করেছেন রিয়াজ। সেবার ১৪৪ রানে ইনিংস খেলেছিলেন ওয়ার্নার। এবার সেই একইভাবে ‘জীবন’ পেয়ে তিনি খেললেন ১০৩ রানের ইনিংস। একে সৌভাগ্য না বলে উপায় আছে!

আরও পড়ুনঃ   বিপিএলে কে কোন দলে

ওয়ার্নারকে আজ ভাগ্যদেবী বর না দিলে শন মার্শকে ভুলে যেতে হতো। তিন বছর আগে এই এমসিজিতেই ৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন মার্শ। তিনি মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হওয়া সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ান। তবে কুরানকে দুর্ভাগা বলতেই হবে। ২০১৩ থেকে এ পর্যন্ত তিনজন ইংলিশ বোলার ‘নো বল’ করার অপরাধে অভিষেক টেস্ট উইকেটবঞ্চিত হয়েছেন। বেন স্টোকস, মার্ক উডের পর কুরান সে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৩ উইকেটে ১৯৪। ব্যাট করছিলেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (৩৫*) ও শন মার্শ (১২*)। পাঁচ টেস্টের সিরিজে এরই মধ্যে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × two =