ইউপিএ জোটে শরিকদের কারও কারও মধ্যে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মানতে আড়ষ্টতা রয়েছে। আড়ষ্টতা আছে কিছুটা মমতারও। এ পরিস্থিতিতে ইউপিএর চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জোটের বৈঠক ডেকেছেন

চার বছর আগে যে ভাবমূর্তিতে ভর দিয়ে নরেন্দ্র মোদি দেশের ক্ষমতায় এসেছিলেন, আজ তা বেশ কিছুটা ম্লান। গুজরাটের গ্রাম যেভাবে বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে, কংগ্রেসকে তা উৎসাহিত করে তুলেছে। রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস নতুন উদ্যমে নেমেছে। উজ্জীবিত কংগ্রেসের নতুন সভাপতি রাহুল গান্ধীও। এই পরিস্থিতিতে ইউপিএর নেতৃত্ব হাতে নিতে উঠেপড়ে লেগেছেন এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার। আগ্রহী কিছুটা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন, ২৬ জানুয়ারিতে শারদ পাওয়ার মুম্বাইয়ে ‘সংবিধান বাঁচাও’ দিবসের ডাক দিয়ে বিজেপির বিরোধিতায় নেমেছিলেন। শহরের রাজপথে পদযাত্রা করেছিলেন তিনি ইউপিএর নেতাদের সঙ্গে। তাঁর ডাকে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্য কংগ্রেসের নেতারা। ছিলেন বামপন্থী নেতারাও। এর পরেই শারদ পাওয়ার দিল্লি আসেন সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিতে। সোনিয়ার সঙ্গে দেখাও করেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনে সোনিয়ার ডাকা বৈঠকে তিনি আসবেন কি না, সংশয় রয়েছে তা নিয়ে।

ইউপিএর শরিকদের কারও কারও মধ্যে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মানতে কিছুটা আড়ষ্টতা রয়েছে। এই কারণেই শারদ পাওয়ারের হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠা। আড়ষ্টতা আছে কিছুটা মমতারও। রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি তাঁর আপত্তির কথা প্রকাশও করেছেন। আজকের বৈঠকে মমতাকে উপস্থিত থাকার জন্য সোনিয়ার পক্ষে অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসছেন না। বৈঠকে যেতে বলেছেন লোকসভা ও রাজ্যসভার দুই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়ানকে।

আরও পড়ুনঃ   এক লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা দেবে তুরস্ক

তৃণমূল নেতাদের ধারণা, জাতীয় স্তরে তিনি যেভাবে বিজেপির বিরোধিতা করে চলেছেন, তার তুলনা নেই। রাষ্ট্রীয় স্তরেও তা তিনি করার যোগ্য। সৎ ও দক্ষ রাজনীতিক হিসেবে তাঁর সমকক্ষও এই মুহূর্তে কেউ নেই। ইউপিএর নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তাঁর আছে।

শারদ পাওয়ারের পক্ষে রাহুলের নেতৃত্ব মেনে নেওয়া এই মুহূর্তে কঠিন। একটা সময় সোনিয়ার নেতৃত্বও তিনি মেনে নেননি। প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁর ‘বিদেশিনী’ চরিত্র নিয়েও।

শারদ পাওয়ারকে নিয়ে ইউপিএ মহলেও যে অবিশ্বাস নেই তা নয়। গুজরাট নির্বাচনে তাঁর দল কংগ্রেসের হয়ে জোটবদ্ধ হয়নি। তার আগে ওই রাজ্য থেকেই রাজ্যসভার নির্বাচনে কংগ্রেস নেতা আহমেদ প্যাটেলকে তাঁর দলের এক সদস্য ভোট দেননি। তাঁর দলের শীর্ষ নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল বিজেপির দিকে ঝুঁকে, পাওয়ারের কন্যা লোকসভা সদস্য সুপ্রিয়া সুলে চান কংগ্রেসের সঙ্গে থাকতে। এই টানাপোড়েনের মাঝে শারদ পাওয়ার কী করবেন অনিশ্চয়তা তা নিয়েই। মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা সম্পর্ক এই মুহূর্তে তলানিতে। শিবসেনা জোট ভেঙে দিলে শারদ পাওয়ারের এনসিপি ওই রাজ্যে বিজেপির হাত ধরবে কি না, তা নিয়েও কেউ কেউ সন্দিহান। ইউপিএর বৈঠক নিয়ে পাওয়ারের উদ্যোগও তাই জোটের অনেকের কাছে প্রশ্নাতীত নয়।

বৈঠক ডেকে সোনিয়া বুঝিয়ে দিলেন, ইউপিএর চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি এখনো সক্রিয়।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 4 =