জাতীয় দলের হয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেট ছেড়েছেন দীর্ঘ ৮ বছর। ইনজুরির কারণে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা হয়নি বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। তবে জাতীয় দলের হয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে আবারো মাঠে নামার হাল ছাড়েননি মাশরাফি।

২০০৯ সালে কিংসটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় মাশরাফিকে। সেবার বল হাতে মাত্র ৬ ওভার করেই সাদা পোশাককে এক প্রকার বিদায় জানান তিনি। তবে এখনো নিয়মিত ওয়ানডে ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন মাশরাফি।

জাতীয় দলের হয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরতে এখনো মরিয়া মাশরাফি। দীর্ঘ ৪ বছর পর ঘরোয়া ক্রিকেট জাতীয় লিগে নেমেছেন মাশরাফি। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বল হাতে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। খেলবেন দ্বিতীয় রাউন্ডেও। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা রয়েই গেছে মাশরাফির।

ওয়ানডে ক্রিকেটের মতো টেস্টেও বাংলাদেশ দলকে আরো বেশি সার্ভিস দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ইচ্ছে ছিল দলের হয়ে পুরোপুরি ফিট থেকে ১২-১৪ বছর টেস্ট খেলার কিন্তু ইনজুরির কারণে সেটি আর হয়ে উঠেনি। তবে দিনশেষে ক্রিকেটে তার কোন অপূর্ণতা নেই বলে মনে করেন মাশরাফি।

“প্রত্যেকটা মানুষেরই কিছু না কিছু অপূর্ণতা থাকেই। আপনি যদি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দিকে লক্ষ্য করেন, দেখবেন প্রায় ১৭ বছরের মতো খেলছি। এর ভিতর টেস্ট ক্রিকেটটা যদি সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ১৩-১৪ বছর খেলতে পারতাম, হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেট পরিবর্তন না করতে পারলেও, অনেক কিছুই দেওয়ার ছিল আমার।”

তিনি আরো যোগ করেন, “এইরকমভাবে চিন্তা করলে অনেক কিছুই। কিন্তু দিনশেষে উপর ওয়ালার কাছে শুকরিয়া। কারণ আমার ক্রিকেট খেলারই কথা ছিল না। ক্রিকেটের দিক থেকে আলাদা করে অপূর্ণতা আছে বলে মনে হয়না আমার।”

টেস্ট ক্রিকেট না খেলতে পারলেও বাংলাদেশের খেলা মিস করেন না এই ওয়ানডে অধিনায়ক। কখনো মাঠে কিংবা কখনো ঘরে বসেই সতীর্থদের খেলা উপভোগ করেন তিনি। তবে বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে তামিম-মুশফিকের ব্যাটিংটা বেশি উপভোগ করেন তিনি সাথে পেসারদের বোলিংটাও।

তবে দলের হয়ে খেলতে পারলে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করতো মনে করেন মাশরাফি তবে দিনশেষে সতীর্থদের জয় কিংবা জিততে চাওয়ার ইচ্ছেটা ঘরে বসেই নিজের মধ্যে ধারণ করেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি।

“অবশ্যই মনে হয় খেলতে পারলে ভাল লাগতো আবার মনে হয় এখন যারা খেলছে তারা অনেক ভাল, এটা যখন চিন্তা করি তখন আর ইচ্ছেটা হয় না। আর বসে আছি যে এমন না। টেস্ট খেলা প্রায়ই দেখি আমি এবং অধিকাংশ ম্যাচই মাঠে গিয়ে দেখি।”

“বিশেষ করে, তামিম-মুশফিকের ব্যাটিং পুরোটাই দেখি। বোলারদের বোলিংটা দেখি বিশেষ করে পেসারদের। মাঠে না দেখলেও বাসায় টিভি চালু থাকে সবসময় এবং বলে দেওয়া থাকে যে বোলিং আসলে যেন ডাক দেয়। এখনো দেখে অনেক উপভোগ করি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “কারণ চাওয়া-পাওয়াটা তো ঐখানেই থাকে। এখনো ওয়ানডে খেলছি। ওরা যখন খেলে  মনে হয় আমি খেলছি বাঁ জিততে চাই এইরকম একটা অনুভুতি কাজ করে।” সূত্র: বিডিক্রিকটাইম।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 15 =