মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বের ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম। এই তথ্য দিয়াছে ইন্টারনেট গতি মাপার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওকলা। ওকলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় ডাউনলোড গতি ৫ দশমিক ১৭ এমবিপিএস। আর আপলোডের গড় গতি ১ দশমিক ৯২ এমবিপিএস।

তথ্যপ্রযুক্তির অন্যতম অনুষঙ্গ হইল ইন্টারনেট। আর ইন্টারনেটের গতির সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সকল কর্মকাণ্ড। ইন্টারনেটের গতি যত বেশি, ইহার কার্যকারিতাও তত বেশি। ওকলার ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতির দীনচিত্রই প্রকটভাবে প্রকাশিত হইয়াছে। যদিও মোবাইল ফোনের তুলনায় বাংলাদেশে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি কিছুটা ভালো। এখানে ১৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৮ নম্বরে। কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি ভালো হইলেও তাহা এখনো বড় শহরকেন্দ্রিক। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে সাত কোটির কাছাকাছি। ইহার মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় সাত কোটি। অর্থাত্ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশই মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক। আর সেই গতিকে কচ্ছপগতি বলিলে অত্যুক্তি হইবে না। আশার কথা হইল, এই মাসেই উদ্বোধন করা হইয়াছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন ‘সি-মি-ইউ-ফাইভ’। নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানের নিমিত্ত আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবলের সহিত যুক্ত হইবার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি হইয়া পড়িয়াছিল। কারণ বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন, স্বাস্থ্য, চিকিত্সা, কৃষি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেক বেশি ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর। এই খাতে ক্রমাগত নূতন নূতন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হইতেছে। আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম নেতৃস্থানীয় দেশ। তাহা ছাড়া, সরকার ইতোমধ্যে ৩৮ হাজারের অধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং ১৫ হাজারের অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করিয়াছে, যেইখানে একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি ল্যাপটপ রহিয়াছে। এই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের মাধ্যমে ৮০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষিত করিবার কথা। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি যদি শ্লথ হয়, তবে ডিজিটাল শিক্ষার এইসব পদক্ষেপ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হইবে। সমপ্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানাইয়াছে যে, বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা কেবল ঢাকাতেই ২ কোটি ২০ লক্ষ। অন্যদিকে ঢাকা ব্যতীত পুরো দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ১৩ লক্ষ। কোনো কোনো প্রযুক্তিবিদ মনে করেন, ফেসবুক ব্যবহারের এই পরিসংখ্যানটি পুরা দেশটির অ্যানালগ থাকিবার একটি প্রামাণ্য চিত্র। ইহা এক ধরনের ডিজিটাল বৈষম্যও বটে। এই বৈষম্য বহাল রাখিয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নহে।

একদিকে মোবাইল ইন্টারনেটের সবচাইতে বেশি গ্রাহক, অন্যদিকে ইহার সর্বনিম্ন গতি এবং উচ্চমূল্যের জন্য বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির সার্বিক বিকাশে পিছাইয়া পড়িতেছে। মনে রাখিতে হইবে, ইন্টারনেট এখন বিলাসিতা নহে, বিশ্বের উন্মুক্ত জ্ঞানভাণ্ডারে প্রবেশপথের চাবিকাঠি। যুগের সহিত তাল মিলাইয়া প্রকৃত মানবসম্পদ তৈরিতেও সাশ্রয়ী মূল্যের ও উচ্চগতির ইন্টারনেট এখন একটি মৌলিক অনুষঙ্গ। ইহার গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম।

Comments

comments

আরও পড়ুনঃ   ফেসবুক-টুইটারে আস্থা নেই ৭৫ ভাগ ব্রিটিশের!

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × five =