ইসরায়েলের সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র চুক্তি বাতিল করল ভারত। ওই বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে ১৬০০টি স্পাইক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল কেনার কথা থাকলেও বুধবার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস ওই চুক্তি বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে অবশ্য আগেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল কিন্তু রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স কনট্রাকটরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কথা জানানো হয়েছে মাত্র এক হপ্তা আগে। রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও ভারত সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে এই সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভারতের অস্ত্রের বাজার বেশ বড়। আজ থেকে নয়, গত দুই দশক থেকেই দেশের এই বাজারটিতে আমরা কাজ করে চলেছি। ভারতের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে আমরা দায়বদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ যে সময় নয়াদিল্লি এই চুক্তি বাতিল করেছে, সেই একই সময় আবার ইজরায়েলের কাছ থেকে ১৩১টি বারাক সারফেস টু এয়ার মিসাইল ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। স্পাইক মিসাইল মূলত পোর্টেবল মিসাইল। কাঁধে করে সেনাবাহিনী একে বয়ে নিয়ে যেতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে দুশমনের ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দিতে এই ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগট’ মিসাইল ব্যবহৃত হয়। ফলে একজন সেনা এই মিসাইল ছুড়েই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যেতে পারেন, তাঁর প্রাণ সঙ্কটে পড়ে না। ২০১৪-তে আমেরিকা যখন নয়াদিল্লিকে এই একই ধরনের জ্যাভলিন মিসাইল দিতে চেয়েছিল, তখন সেটা না নিয়ে ভারত ঝুঁকেছিল ইসরায়েল নির্মিত এই স্পাইক মিসাইলের দিকে। এখন প্রশ্ন হল, তাহলে কেন ভারতই এই চুক্তি বাতিল করে দিল? চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই হায়দরাবাদের কাছে মিসাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় কল্যাণী গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মিসাইলগুলি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় ইজরায়েলি সংস্থা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অরগানাইজেশন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে জানায়, আগামী চার বছরের মধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক মানের মিসাইল তৈরি করে ভারতীয় বৈজ্ঞানিকরা মন্ত্রকের হাতে তুলে দিতে পারবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, ততদিন পর্যন্ত কী হবে? ইসলামাবাদ যদি সীমান্তে এই মিসাইল ব্যবহার করে, তাহলে ভারতীয় জওয়ানরা পালটা কী ছুড়বেন? পাক পদাতিক বাহিনীর হাতে কিন্তু এমন মিসাইল রয়েছে যা কাঁধে করে বয়ে নিয়ে গিয়ে চার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের ভারতীয় সেনার ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দেওয়া যায়। অথচ ভারতের হাতে যে মিসাইল রয়েছে তার পাল্লা মাত্র ২ কিলোমিটার। এভাবে চুক্তি বাতিল করে দেওয়ায় ভারতের অন্যতম বন্ধু ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়ে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুনঃ   উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা কতটুকু?

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine − one =