রাজনীতির মাঠে তাঁরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু গতকাল সোমবারের কথা আলাদা। সব বিভেদ ভুলে তাঁরা একসঙ্গে হাতে হাত রেখে কেক কাটলেন। এরপর একজন আরেকজনের মুখে তুলে দিলেন কেক।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির নেতা আরিফুল হক চৌধুরী এবং সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান গতকাল একসঙ্গে বড়দিন উৎসবে অংশ নেন। নগরের নয়াসড়ক এলাকার সিলেট খ্রিষ্টান মিশনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বড়দিনের ঐতিহ্য মেনে সাজানো হয়েছিল নয়াসড়ক খ্রিষ্টান মিশনারি চার্চ, ছিল গোশালা। রঙিন কাগজ, ফুল ও আলো দিয়ে সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। ভোরে ক্যারলস গানের (ধর্মীয় সংগীত) মধ্য দিয়ে বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল সাড়ে আটটায় বিশেষ প্রার্থনা হয়। বড় দিনের কেক কাটতে জড়ো হন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজনেরা। বেলা ১১টায় এ আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত হন মেয়র আরিফুল, সাবেক মেয়র কামরানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কেক কাটার আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দুজন। পরে সিলেট প্রেসবিটারিয়ান চার্চের ফাদার ডিকন নিঝুম সাংমাকে নিয়ে আরিফ ও কামরান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কেক কাটেন। পরে তাঁরা উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের আপ্যায়ন করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিবিদদের মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখে ফাদার ডিকন নিঝুম সাংমা বলেন, ‘বড়দিন হলো বড় হওয়ার দিন। আমরা বড় দিনে বড় হওয়ার মানসিকতা দেখলাম।’

আরিফুল হক চৌধুরী নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদে আছেন। অন্যদিকে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান কেন্দ্রীয় সদস্য, পাশাপাশি তিনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বদরউদ্দিনকে হারিয়ে আরিফুল মেয়র পদে বিজয়ী হন। অন্যদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র বদরউদ্দিন। সিলেট পৌরসভা থাকার সময়ও তিনি চেয়ারম্যান পদে ছিলেন।

চলতি বছর সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষে হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। তাই দুই দলেই চলছে নির্বাচনী তৎপরতা। মেয়র পদে আরিফুল ও কামরান দুজনেই মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাঁদের সঙ্গে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মাঠে তৎপর আছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদ, নগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। অনুষ্ঠানে আসাদউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ   চাল, পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের এমন সৌহার্দ্য রাজনীতির মাঠকে স্থিতিশীল রাখবে। তাতে জনসাধারণ তথা ভোটারেরা স্বস্তির মধ্যে থাকবেন। এ রকম সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি তাঁরা সব সময় চান।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × four =