একের পর এক জটিলতা ঘিরে ধরছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে। মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকা অবস্থায় কমপক্ষে দু’জন নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন পর্নো তারকা। অন্যজন প্লেবয় মডেল। দু’জনকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অর্থের বিনিময়ে মুখ বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এফবিআই ট্রাম্প টিমের রাশিয়া কানেকশন নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

তাতে কমপক্ষে ১৩ জন রাশিয়ানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে ভূমিকা পালন করেছে। প্রচারণায় অর্থ খরচ করেছে। গোপন বৈঠক হয়েছে। সাইবার জালিয়াতি হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন বিষয়ক সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গৃহীত একটি বিল বাতিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শিশু অবস্থায় যেসব অভিবাসী অবৈধ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে বৈধতা দিয়েছিলেন ওবামা। এ রকম অভিবাসীদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দিতে চাইছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আদালত। এরই মধ্যে ফ্লোরিডায় একটি স্কুলে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের স্টাফ বিষয়ক সেক্রেটারি রব পর্টারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন তার সাবেক দুই স্ত্রী। এ জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। ওদিকে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার পরেও একজন পর্নো তারকা ও একজন প্লেবয় মডেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের খবরে  মেলানিয়া ও ট্রাম্পের মধ্যে টান টান সম্পর্ক বিদ্যমান বলে খবর দিচ্ছে পশ্চিমা মিডিয়া। একটি ঝামেলা কাটিয়ে ওঠার পরই নতুন আরেকটি এসে হাজির হচ্ছে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সামনে। এর ফলে এক রকম অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আস্থায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কথা লিখেছে অনলাইন সিএনএন। বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি সপ্তাহ শুরু হচ্ছে স্পেশাল কাউন্সিলর রবার্ট মুয়েলারের রিপোর্টকে সামনে রেখে। ওই রিপোর্টে তিনি ১৩ রুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছেন, তারা ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। এটা ক্রেমলিনের টার্গেট ছিল। এর লক্ষ্য ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করা ও ট্রাম্পকে জিততে সহায়তা করা। এমন রিপোর্টে নিশ্চয়ই হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা উদ্বিগ্ন হবেন। মুয়েলারের রিপোর্টের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ফলের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। ট্রাম্প টিম কোনো অন্যায় করে নি। কোনো সমঝোতাও হয় নি। উল্লেখ্য, মুয়েলার তার রিপোর্টে ট্রাম্পের স্টাফ ও রাশিয়ার কোনো এজেন্টের সরাসরি লিয়াজোঁ থাকার বিষয়ে রেফারেন্স দেন নি। তবে তিনি বলেছেন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ একটি ক্রিমিনাল বিষয়। ফলে এতে কারো বিচার হবে কিনা বা হলে কিভাবে হবে তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পও এখন আরো জোরালোভাবে বলবেন, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ একটি বড় ধরনের এক ধাপ্পাবাজি। তবে মুয়েলারের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রকৃত হুমকি বেরিয়ে এসেছে। এখন যদি রবার্ট মুয়েলারকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরখাস্ত করেন তাহলে ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে রিপাবলিকানদের জন্য। এমনিতেই নির্বাচনী কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে মস্কোর বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের দাবি জোরালো হয়েছে প্রশাসনের ওপর। ওয়াশিংটন ও ক্রেমলিনের মধ্যে সম্পর্কও অনেকটা তিক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় রাশিয়ার স্পর্শকাতর তৎপরতার যে ছবি রবার্ট মুয়েলার তার রিপোর্টে এঁকেছেন তাতে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভাবমূর্তি বাড়বে নিঃসন্দেহে। তাকে দেখা হবে গুপ্তচরবৃত্তির একজন মাস্টার হিসেবে, যদিও রাশিয়া এমন অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আইনজীবী মাইকেল কোহেন স্বীকার করেছেন ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পর্নো তারকা স্টর্মি ডানিয়েলকে মুখ বন্ধ রাখতে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাহলে অর্থের বিনিময়ে মাইকেল কোহেন ওই পর্নো তারকার মুখ বন্ধ রেখেছিলেন, এতে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন হয়েছে কিনা? ওদিকে দ্য নিউ ইয়র্কার এক নতুন রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, প্লেবয়ের সাবেক মডেল কারেন ম্যাকডগালের সঙ্গে ২০০৬ ও ২০০৭ সালে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন ট্রাম্প। এসব রিপোর্ট প্রকাশের পর ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার তখনকার বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ   ভারতে এলার্ট জারি, দিল্লির দায়িত্বে আধা সামরিকবাহিনী

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty + twelve =