বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ওষুধ ও অটোমোবাইলসহ সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের জন্য চীনা ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে।
সোমবার রাজধানীর মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে সফররত চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের (সিসিপিআইটি) ১০ সদস্যের এক বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনায় এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ এই আহবান জানান।
এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন, ট্যাক্স হলিডে, করপোরেট কর সুবিধাসহ বাংলাদেশ সরকারের আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে চীনা ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারেন। চীনের সাথে অটোমোবাইল খাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যৌথ বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি জানান।
সভায় এফসিসিসিআই পরিচালকসহ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ ইকনোমিক জোনস অথরিটি (বেজা) এবং বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটির (বেপজা) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শফিউল ইসলাম বলেন, অবকাঠামোগত ঘাটতি থাকা সত্বেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরেই প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ হারে অর্জিত হচ্ছে, যা গত দু’বছরে ৭ শতাংশে উনীœত হয়েছে। নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বিশাল বাজার সামনে রেখে চীনা কোম্পানিগুলো তাদের কাঁচামাল ব্যবহার করে এদেশে উৎপাদনে এগিয়ে আসতে পারে।
সিসিপিআইটি পরিচালক জোও জিয়া চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশের সাথে চীনের ঐতিহাসিক বন্ধৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে এফবিসিসিআই এবং সিসিপিটিআইটির (শ্যানডং) মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শ্যানডং প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে টেক্সটাইল ও অন্যান্য খাতে অনেক বিনিয়োগ এসেছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, দু’দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাণিজ্য উন্নয়ন কাউন্সিল হিসেবে সিসিপিআইটি কাজ করে যাচ্ছে। চীন ও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুরোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন এবং অংশীদার খুঁজে পেতে সিসিপিআইটির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন জিয়া।
সিসিপিআইটি থেকে বস্ত্র, রাবার, টায়ার, মাইক্রোফোন ইত্যাদি খাতের উদ্যোক্তাগণ চীনা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৯৪৯ দশমিক ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য চীনে রপ্তানি করে এবং চীন থেকে ১০১২৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। চীনে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে ওভেন গার্মেন্টস, চামড়াজাত পণ্য, নীটওয়্যার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, ফ্রোজেন ফুড এবং প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক সামগ্রী। আর চীন থেকে মুলত টেক্সটাইল এবং টেক্সটাইল সামগ্রী, যন্ত্রপাতি ও ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী আমদানি করা হয়।

আরও পড়ুনঃ   বন্দর সুবিধার অভাবের বাড়তি খরচের দায় মেটাতে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 5 =