বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণ জমা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, এসব ত্রাণ পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের মাঝে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিতরণ হচ্ছে। এতে ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরছে।

জেলা প্রশাসন থেকে এক বিবরণীতে প্রাপ্ত ত্রাণ ও বিতরণের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয় গণমাধ্যমকে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ৯ সেপ্টেম্বর তুরস্ক থেকে এসেছে ৩৭ টন চাল, ৬ টন ডাল, ৬ টন চিনি, ৫ হাজার ৮৯৬ লিটার তেল ও ২ টন লবণ।

১৪ সেপ্টেম্বর আজারবাইজান থেকে এসেছে ২০ টন চিনি, ১০ হাজার লিটার কর্ন অয়েল, ১০ হাজার লিটার সানফ্লাওয়ার অয়েল, ১০ টন কনডেন্সড মিল্ক, ১০ টন ক্যান্ড বিফ, ১০ টন পেস্তা, ১০ টন স্পাগেটি ও ২০ টন আটা। ১৬ সেপ্টেম্বর মরক্কো থেকে এসেছে ২২ প্রকারের ত্রাণসামগ্রী। এতে রয়েছে চাল ৯ টন, কম্বল এক হাজার, ত্রিপল ১৭০ বান্ডিল, তাঁবুর খুঁটি ৬৯৯টি, ওষুধ ২০ কার্টন, হ্যান্ডওয়াশ ১১৮ কার্টন, গুঁড়া দুধ ৭২০ প্যাকেট, হুইসপার ৩৭১ কার্টন, নিডো দুধ ৮০৪টি, বিস্কুট ৩৯৮ টিন, ডায়াপার টিস্যু ৬০ কার্টন, তোয়ালে ২৫ ব্যাগ, খেঁজুর ৮৫ কার্টন, ফেসওয়াশ ১৫৬ কার্টন, সোপ বার ১৪ কার্টন, পুরনো কাপড় ২২ কার্টন, শ্যাম্পু ৬৬ কার্টন, প্যাম্পার্স এক কার্টন, পানি ১৯ কার্টন ও বেক বিন ৪ কার্টন। ১৬ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছে ১০ টন চাল, ২০ বক্স তাঁবু ও ৫ হাজার কম্বল। এসব ত্রাণ মজুদ রয়েছে ঝিলংজা খাদ্য গুদামে।

অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা থেকে পাওয়া ত্রাণের মধ্যে চট্টগ্রামের আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন, কক্সবাজারের ব্যারিস্টার নুরুল আজিম, চট্টগ্রামের মোস্তফা হাকিম ওয়েল ফেয়ার, চট্টগ্রামের দাওয়াতে ইসলামী, কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি, বিসিএস (কর) একাডেমি, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, সিলেটের দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট এবং চট্টগ্রামের আগ্রযাত্রার দেওয়া বিপুল পরিমাণ ত্রাণ টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে সরবরাহ করা হয়েছে।

আরও যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার জেলা প্রশাসন শাখায় ত্রাণ জমা দিয়েছে—মুসলিম ইন্টারন্যাশনাল, কুমিল্লার এসিআই মোটরস, ঢাকার সাজটেক্স, ঢাকার আফিব আবদুল ফাত্তাহ, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ, কক্সবাজার জেলা পরিষদ, ঢাকার নিহারিকা, যমুনা গ্রুপ, আশা কক্সবাজার শাখা, ঢাকার রেজাউল করিম সাহীন, সাজেদুর রহমান, ঢাকার আরপিএন, এ মিগোস ব্যান্ড কো অপারেটিভ সোসাইটি, গোলাম সরওয়ার ই কায়নাদ, কক্সবাজার টিএমএসএম ও ঢাকার ফিনা ইলেকট্রিক। এসব ত্রাণ ঝিলাংজা ও উখিয়ার খাদ্য গুদাম মজুদ রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট সেনা-পুলিশের ৩০টি চৌকিতে হামলার পর দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর প্রাণভয়ে স্রোতের মতো বাংলাদেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। এরইমধ্যে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার শিশু বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর জোট ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, জমা হওয়া ত্রাণ ধারাবাহিকভাবে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেকে রোহিঙ্গাদের সরাসরি সহায়তা দিতে যান। এতে ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা ঘটছে।’

শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখায় এসব ত্রাণ জমা দেওয়া আহ্বান জানান তিনি।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen − 4 =