ইরাকের কুর্দিরা পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন দেখছে, সে ব্যাপারে কঠোর হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, কুর্দিদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক-অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। সীমান্তপথে সব ধরনের লেনদেন বন্ধের মাধ্যমে কুর্দিদের ক্ষুধার যন্ত্রণা দেওয়ার হুমকিও দেন এরদোগান। সোমবার ইরাকের কুর্দিস্তানে স্বাধীনতার লক্ষ্যে গণভোট হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এরদোগান এ হুমকি দিলেন। খবর বিবিসি।বিবিসি জানিয়েছে, তুরস্ক সরকার উদ্বেগে রয়েছে; কারণ ইরাকে কুর্দিরা স্বাধীনতা পেয়ে গেছে তুরস্কে বসবাসরত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাড়তি শক্তি সঞ্চয় করবে। এদিকে গত সোমবারের গণভোটে ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্বাধীনতার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটই জয়ী হবে। তবে কুর্দি নেতারা শুরু থেকেই বলে আসছে, এ গণভোটের মাধ্যমে আপনা-আপনিই স্বাধীনতা ঘোষণা করবে না; বরং তারা এ ভোটের মাধ্যমে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হতে চায়। এর জবাবে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি বলেছেন, ‘আমরা গণভোটের ফল নিয়ে কোনো ধরনের সংলাপ বা আলোচনার জন্য প্রস্তুত নই। কারণ এটা পুরোপুরি অসাংবিধানিক।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়া নেওয়া এ গণভোটের সিদ্ধান্ত বিশ্বাসঘাতকতা।’ এর আগে এরদোগান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তিনি কুর্দিস্তানের প্রধান রপ্তানি পণ্য তেলের সরবরাহ লাইন কেটে দেবেন এবং কুর্দিদের লরিগুলো তুরস্কের সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ বন্ধ করে দেবেন। ইরাকের কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানির প্রতি এরদোগান বলেছেন, তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন যেন কুর্দি নেতারা গণভোটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। উল্লেখ্য, চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে তুর্কি ও কুর্দি সীমান্তে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লেনদেন হয়েছে। প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে কুর্দিরা চতুর্থ বৃহৎ নৃগোষ্ঠী, যাদের নিজস্ব কোনো রাষ্ট্র নেই। তুরস্ক, ইরাক, ইরানে তারা ছড়িয়ে রয়েছে। ইরাকের তেলসমৃদ্ধ এলাকাগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

five + nine =