হাইকোর্টের আইনজীবী

কুমিল্লায় পেটে বাচ্চা রেখেই সেলাই, ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের রায়

জমজ সন্তানের একটি বের করার পর আরেকটিকে ভেতরে রেখেই পেট সেলাই করে দেয়ার ঘটনার ভুক্তভোগী খাদিজাকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কুমিল্লার লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জমজ সন্তানের একটিকে পেটে রেখে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক হোসনে আরা বেগমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএমডিসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত এবং ব্যবস্থা নেয়ার আগ পর্যন্ত ওই চিকিৎসককে অস্ত্রোপচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেয়।
আজ আদালতে হাজির হন অস্ত্রোপচারে সংশি¬ষ্ট চিকিৎসক হোসনে আরা বেগম এবং লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক।
গত ২৯ অক্টোবর সেই চিকিৎসক ও কুমিল্লার সিভিল সার্জনসহ তিনজনকে তলব করে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। সে অনুয়ায়ি গত ৭ই নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে তারা ওই ঘটনা বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।
একটি জাতীয় পত্রিকার এ সংক্রান্ত খবর আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। পরে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেয়।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দৌলতপুর গামের আউয়াল হোসেনের স্ত্রী খাদিজা আক্তারকে (২২) গত ১৮ সেপ্টেম্বর দাউদকান্দির গৌরীপুর লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন করা হয়। সেখানে খাদিজার পেটে একটি সন্তান রেখেই অপারেশন শেষ করার অভিযোগ ওঠে ডা. শেখ হোসনে আরার বিরুদ্ধে। খাদিজার গর্ভে দুইটি সন্তান থাকলেও চিকিৎসক শেখ হোসনে আরা অপারেশন করে একটি সন্তান বের করে অপরটি টিউমার বলে অপারেশন সমাপ্ত করেন।

পরবর্তীতে খাদিজা বাড়িতে যাওয়ার পর দীর্ঘ এক মাস তার পেটে ব্যথা ছিল। এ নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যান তিনি। পেটের ব্যথা বাড়তে থাকলে খাদিজা আক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। দ্বিতীয় অপারেশনের পর খাদিজার গর্ভে থাকা অপর বাচ্চাটি মারা যায়।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + nineteen =