বিরাট কোহলির আরেকটি অধিনায়োকোচিত ইনিংসে শেষ ওয়ানডেতেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়েছে সফরকারী ভারত। সেঞ্চুরিয়ানে অনুষ্ঠিত ছয় ম্যাচের সিরিজের ষষ্ঠ ও শেষ ওয়ানডেতে কোহলির ১২৯ রানে ভর করে ভারত ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে প্রোটিয়াদের।
৯৬ বলে ১৯টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারির সহায়তায় কোহলি ক্যারিয়ারের ৩৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। আর তার এই ইনিংসে ১৭.৫ ওভার বাকি থাকতে ভারত জয় নিশ্চিত করে। একইসাথে ছয় ম্যাচের সিরিজে ভারত ৫-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে স্বাগতিকদের। দক্ষিণ আফ্রিকার পিছনে র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সিরিজ শুরু করা ভারত এই জয়ে শীর্ষস্থানটিও দখল করে নিয়েছে।
এই সিরিজটি মূলত ছিল কোহলির ব্যক্তিগত সাফল্যের সিরিজ। তিনটি সেঞ্চুরিসহ প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কোহলি কোন দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ৫০০রও বেশি রান সংগ্রহের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। ৬ ম্যাচে ১৮৬.০০ গড়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫৫৮ রান। ম্যাচ শেষে কোহলি বলেছেন, ‘পারফরমেন্স দিয়েই অধিনায়ককে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। আর তা যদি সফল হয়, সাথে সাথে পুরো দলের সমর্থনও থাকে তবে সেটা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি।’
পুরো সিরিজে এভাবে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার রহস্য কি, এমন প্রশ্নের উত্তরে কোহলি বলেছেন, আমার ক্যারিয়ারে হয়ত আর খুব বেশী হলে আট থেকে নয় বছর বাকি রয়েছে। একজন ক্রিকেটারের জন্য এটা মোটেই দীর্ঘ কোন ক্যারিয়ার নয়। সে কারনেই আমি সময়টুকু যথার্থভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করি। যতটা সম্ভব অনুশীলনে পরিশ্রম করি, আর সেভাবেই প্রতিটি দিন কাজে লাগাতে চাই।
কোহলি আরো বলেন ভারতের হয়ে খেলা ও অধিনায়কত্ব করার থেকে বড় কিছু একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে আর কিছু হতে পারেনা। অসাধারণ এই কৃতিত্ব অর্জনের পিছনে তিনি সতীর্থদের পাশাপাশি স্ত্রী বলিউড তারকা আনুষ্কা শর্মার অবদানের কথাও স্মরণ করেছেন।
কোহলির ব্যাটিংয়ের প্ল্যাটফর্মটা অবশ্য ভারতীয় বোলাররাই তৈরি করে দিয়েছিলেন। বোলারদের কল্যাণে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস ৪৬.৫ ওভারে ২০৪ রানেই গুটিয়ে যায়। ফাস্ট বোলার শারদুল ঠাকুর ৫২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। জবাবে চতুর্থ ওভারে রোহিত শর্মা (১৫) এনগিদির বলে আউট হয়ে ফিরে গেলে কোহলি ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেন। ধীর গতির পিচে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা যেখানে নিজেদের মোটেই মেলে ধরতে পারেননি সেখানে কোহলি প্রায় প্রতিটি বলই খেলার চেষ্টা করেছেন। ৩৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করার পরে ১৭টি বাউন্ডারিতে ৮২ বলেই ক্যারিয়ারের ৩৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। এরপর আরো দুটি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারির সহায়তায় ১২৯ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ সেরা কোহলি দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এই ম্যাচের আগেই ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করা ভারতীয় দলে শুধুমাত্র একটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। ভুবনেশ্বর কুমারের স্থানে মূল একাদশে জায়গা করে নেন ঠাকুর। অন্যদিকে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা খায়া জোনদো ৭৪ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন। চলতি সিরিজে এই নিয়ে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০ কিংবা তার বেশী রান করলেন জোনদো। পুরো সিরিজেই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা অব্যাহত ছিল। স্পিনার কুলদ্বীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহাল পুরো সিরিজে যথাক্রমে ১৭ ও ১৬টি উইকেট দখল করেছেন। কালকের ম্যাচে যাদব একটি ও চাহাল নিয়েছেন ২টি উইকেট।

আরও পড়ুনঃ   মেসিকে থামানো যাবে না : মোরাতা

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 − 11 =