ক্যাসিনো অর্থ সরকার নিয়ন্ত্রিত জুয়া খেলা। ক্যাসিনো স্থাপিত হওয়ার পেছনে একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। আগে ভারতীয় উপমহাদেশে জুয়া খেলা হতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে, যেখানে-সেখানে। সরকারিভাবে ক্যাসিনো স্থাপন করা হয় কেবল এই অনিয়ন্ত্রিত জুয়াকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে নিয়ে আসার জন্য। এটি স্থাপনের আরও একটি কারণ ছিল জুয়া থেকে সরকারি লভ্যাংশ ও শুল্ক নিশ্চিত করা।

প্রায় দুই হাজার বছর আগে ভারতে ক্যাসিনো স্থাপিত হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থানের হদিস এখনো পাননি ইতিহাসবিদেরা। তবে কাউতিলিয়া নামের একজন প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদের লেখায় উঠে এসেছে জুয়ার স্থান হিসেবে ক্যাসিনো স্থাপনের কিছু কারণ। কাউতিলিয়া তাঁর অর্থশাস্ত্র পুস্তকে ভারতীয় উপমহাদেশে ক্যাসিনো স্থাপনের কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। এগুলোর মধ্যে আছে জুয়াকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা। জুয়া খেলায় ‘সাম্যতা’ নিশ্চিত করা সর্বোপরি এই খেলা থেকে সরকারি শুল্ক প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

কাউতিলিয়া লিখেছেন, স্থাপিত ক্যাসিনোতে সরকার বিভিন্ন জুয়ার নানা উপাদানের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সরকার ওই সময় খেয়াল রাখত, জুয়া খেলে যেন কেউ নিঃস্ব বা সর্বস্বান্ত না হয়। ওই সময় জুয়ার প্রতিটি আসরে বিনিয়োগ করা মোট অর্থ থেকে ৫ শতাংশ ও জুয়ায় বিজয়ী ব্যক্তির মোট প্রাপ্ত অর্থের ৫ শতাংশ সরকারি কোষাগারে নিয়ে নেওয়ার রেওয়াজ খুব কঠোরভাবে মেনে চলা হতো। আবার ক্যাসিনো বলতে আরো বুঝায় যেখানে জুয়া, মদ, নারী রাতভর উন্মুক্ত থাকে আগত অতিথিদের জন্য।

ক্যাসিনো নিয়ে এতো আলোচনার কারণ সম্প্রতি বাংলাদেশের তিন তারকা ক্রিকেটারের ক্যাসিনোতে যাওয়া প্রসঙ্গ নিয়ে। সদ্য সমাপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ২০০ রানে লজ্জাজনক ভাবে হারে বাংলাদেশ। টেষ্টের পর ওয়ানডে ম্যাচেও হোয়াইটওয়াস হয় টিম টাইগাররা।

ঠিক শেষ ওয়ানডে ম্যাচ শেষ হবার ঘণ্টাখানেক পরই তাসকিন, শফিউল ও নাসির চলে যান নগরীর একটি ক্যাসিনোতে। রাত দশটার মধ্যে হোটেলে ফেরার কথা থাকলেও তারা ফিরেন রাত সোয়া এগারটার পর। যেটা টিম ম্যানেজমেন্টের স্পষ্ট নিয়মভঙ্গ।

এ ব্যাপারে নাজমুল হাসানের পাপনের ধারণা, ‘তিন ক্রিকেটার ক্যাসিনোতে গেলেও জুয়া খেলেননি!’ তবে নাজমুল হাসান তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ম্যানেজার হিসেবে দলের সঙ্গে থাকা মিনহাজুল বলেছেন, আমি তো ওদের জিজ্ঞেস করে জানলাম, ওখানে ওরা ডিনার করতে গিয়েছিল। আর সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার ডি ভিলিয়ার্স, রাবাদারা ছিল। তাদের সঙ্গে আড্ডা মেরেছে ওরা। তার জন্য দেরি হয়েছে।

নাম না বলা শর্তে বিসিবিরি এক কর্মকর্তা বলেন, নাসির হোসেন, শফিউল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের বিপক্ষে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে জরিমানা অথবা নিষিদ্ধও করতে পারে বিসিবি।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

12 − 6 =