মধ্যাহ্নভোজ বা রাতের খাবারে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে খাবার থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই খাবারের পর অনেক সময় চায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। আবার কেউ কেউ অভ্যাসের কারণেই দুপুর কিংবা রাতের খাবারের পর চা পান করে থাকেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণের ঠিক পরপরই চা পান করা উচিত নয়। এতে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

.

দেখা যায়, চায়ের মধ্যকার ট্যানিন খাবারের প্রোটিনের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে এক ধরনের জটিল রাসায়নিক যৌগ তৈরি করে। এই রাসায়নিক যৌগ হজমে সমস্যার সৃষ্টি করে এবং আয়রন শোষণে বাধা দেয়।

কাজেই নিয়মিত উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণের ঠিক পরপরই চা পান করলে অদূর ভবিষ্যতে তা হজমে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আর হজমের সমস্যা হওয়া মানেই শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়া। এতে একসময় শরীর অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে।

এ বিষয়ে ইঁদুরের ওপর চালানো এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক দেখেছেন, প্রোটিনজাতীয় খাবারের সঙ্গে চা গ্রহণ করলে খাদ্য হজমের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং তা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।

তবে এ সমস্যা শুধু দুপুরের খাবার কিংবা রাতের খাবার গ্রহণ করলেই হবে সেটি নয়, অন্যান্য সময়ও যদি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত নাশতা খান, যেমন মাংসের কাবাব কিংবা মাংস দিয়ে তৈরি এমন কিছু খাওয়ার ঠিক আগে কিংবা ঠিক পরেই চা পান করলে একই ধরনের বিপত্তি হবে।

মাংস ও মাছের মধ্যে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন থাকে। তবে মাংসের সঙ্গে চা পানেই সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। আবার চায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ট্যানিনের উপস্থিতির কারণে শুধু লিকার চায়ের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরো বেশি হয়।

তবে কারো কারো ক্ষেত্রে প্রোটিন বা আমিষযুক্ত খাবারের সঙ্গে চা পানের কারণে তেমন কোনো সমস্যা দেখা না দিলেও নীরব অপুষ্টি তাদের ক্রমান্বয়ে গ্রাস করতে থাকে। তাদের শরীর প্রয়োজনীয় মিনারেল থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। একপর্যায়ে মিনারেলের ঘাটতি এবং অপুষ্টিজনিত কারণে বিভিন্ন রকমের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

সুতরাং প্রোটিন ভোজনের পরপরই চা পানের অভ্যাস থাকলে সেটি ত্যাগ করতে হবে। আর খাবারের পর চা পান যদি করতেই হয়, তাহলে অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে তার পর করুন।

তথ্য সূত্র: এমসিডিসি

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven − six =