ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিমান ও ট্যাঙ্ক দিয়ে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।

ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ইসরাইলি বিমানগুলো গাজা উপত্যকার পূর্বে তুফাহ অঞ্চলে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের কয়েকটি অবস্থানে আঘাত হানে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ কিদরা জানান, ইসরাইলের হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ফিলিস্তিনের যোদ্ধারা অধিকৃত ভূখণ্ড লক্ষ্য করে তিনটি রকেট ছুঁড়েছে যার মধ্যে দুটি রকেট ইসরাইলি আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে আর তৃতীয় রকেটটি ইসরাইলের একটি ভবনে আঘাত হেনেছে। এতে ভবনটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয় বলে দাবি করেছে ইসরাইল। পুলিশ জানিয়েছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে শুক্রবারের বিক্ষোভ দিবসে ইসরাইলি পুলিশ ও সেনাদের হামলায় কমপক্ষে ২৫০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসরাইলি সেনারা তাজাগুলির পাশাপাশি টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে।

পরিচয় মিলেছে ফিলিস্তিন আন্দোলনে সাড়া ফেলা সেই তরুণীর

হলুদ স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কালো পোশাকের একজন ফিলিস্তিনি নারী ইসরাইলি পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারছে, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিটি ৩০ বছরের পুরনো।

ছবিটি তুলেছিলেন আলফ্রেড ইজোবযাদেহ।

দখলকৃত পশ্চিম তীরের বেইট সাহোর গ্রামে ওই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছিল।

কিন্তু ছবির সেই নারীর পরিচয় এই এতো বছরেও কারো জানা ছিল না। অবশেষে তার পরিচয় জানা গেছে। তার নাম মিশেলাইন আওডা।

ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ১৯৮৭ সালে ‘ইন্তিফাদা’ বা গণজাগরণের আন্দোলন শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। ওই আন্দোলনে ১৪০০জন ফিলিস্তিনি আর ২৭১জন ইসরাইলি নিহত হয়।

২০০০ সালে দ্বিতীয় দফার ইন্তিফাদা শুরু হয়েছিল, যাতে মারা যায় ৩৩৯২জন ফিলিস্তিনি আর ৯৯৬ জন ইসরাইলি।

মিশেলাইন বলছেন, আমার পরনে ছিল কালো স্কার্ট, হলুদ স্কার্ফ আর হলুদ স্যান্ডেল।

তিনি একজন ফিলিস্তিনি খৃষ্টান। ওই ঘটনার দিন তিনি ছিলেন সেখানকার চার্চে।

আরও পড়ুনঃ   ৫ বছরের বালিকার ৭০ বার অপারেশন!

মিশেলাইন বলছেন, ‘সেদিন আমার বিশেষ একটি ম্যাসের অনুষ্ঠান ছিল। তাই ওরকম কালো পোশাক পরেছিলাম। সেদিন কোনো বিক্ষোভ হবে বলে ভাবিনি।’

‘কিন্তু আমি দেখতে পেলাম, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এসে তরুণদের সাথে লড়াই শুরু করেছে। আমি সেই তরুণদের সাথে তখনি যোগ দিলাম’, স্মরণ করেন তিনি।

‘এক সময় আমি দৌড়াতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু স্যান্ডেল পড়ে দৌড়াতে পারছিলাম না বলে সেগুলো খুলে হাতে নিলাম।’

তিনি বলছেন, ‘একসময় নিচু হয়ে একটি পাথর ইসরাইলিদের দিকে ছুঁড়ে মারলাম। কিন্তু আমি জানতাম না কেউ আমার ছবি তুলছে।’

মিশেলাইন আওডার বয়স এখন ৬৩। তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে চাকরি করেন।

তার দুই সন্তান রয়েছে, কিন্তু তিনি চান না, তারা আবার এরকম কোনো সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ুক।

হলুদ স্যান্ডেল হাতে ছবিতে বিখ্যাত হলেও, এখন অবশ্য তার আর কোনো হলুদ রঙের স্যান্ডেল নেই।- বিবিসি

ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসরাইলের ৬৩ কিশোর

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বর্বরতার প্রতিবাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের ৬৩ কিশোর।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগদর লিবারম্যান, শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান গ্যারি ইজেনকোটকে লেখা এক চিঠিতে সেনাবাহিনীতে যোগদানের অস্বীকৃতি জানায় টুয়েলভথ ক্লাসে অধ্যয়নরত ওই কিশোররা। চিঠিতে তারা জানায়, শান্তি রক্ষায় তাদের যে প্রতিজ্ঞা, সেটি পালনেই এ সিদ্ধান্ত।

তাদের মতে, ইসরাইলি সেনারা বর্ণবাদী সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এ কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। একই ভূমিতে বসবাস করেও ইসরাইলিরা আইনের সুবিধা নিচ্ছেন আর ফিলিস্তিনিরা নিপীড়িত হচ্ছেন। ফিলিস্তিনি ভূমিতে অবৈধ দখল বাস্তবায়নের পাশাপাশি সেখানে দেয়াল দিয়ে ছিটমহলের মতো অবস্থা করা হচ্ছে। এতে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। – মিডল ইস্ট মনিটর

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 5 =