গাজীপুরের শ্রীপুরে আপন ভাগ্নিকে জবাই করে হত্যার দায়ে মামাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

২২ নভেম্বর বুধবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রায়ে মুতৃদণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ড প্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি হলো- গাজীপুরের শ্রীপুর থানার চকপাড়া গ্রামের হাসমত আলী ওরফে হাসেমের ছেলে মোঃ রিপন মিয়া (৩৫)। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ভাটকান্দি গ্রামের মো. আব্দুর রহিমের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৩) ও শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি থানার মো. মোস্তফার ছেলে মো. মোজাফফর (২১)।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে রিপন মিয়া তার দুই সহযোগীকে নিয়ে আপন ভাগ্নি নাজমীনকে হত্যা করে। তিনি আরও জানান, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ছলিং মোড় (চকপাড়া) এলাকার হাসমত আলীর মেয়ে মোছা. আছমা বেগম তার প্রথম ঘরের দুই কন্যা সন্তান নাসরনি (১৮) ও নাজমীন (৭)কে বাপের বাড়ি রেখে অন্যত্র বিয়ে বসেন। তার বাপের বাড়ির সঙ্গে প্রতিবেশী করিম গংদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আছমার মা মিনুজা বেগম ও মেয়ে নাজমীনকে বাড়ি রেখে পিতা হাসমত আলী টাঙ্গাইল বেড়াতে যান। এ দিন রাত আড়াইটার দিকে নানীর সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মেয়ে নাজমীনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে উঠানে জবাই করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আছমা বেগম বাদি হয়ে ৩০ অক্টোবর প্রতিবেশী আব্দুল করিম, আব্দুল কাদির ও আব্দুল মোতালেবকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খন্দকার আমিনুর রহমান মামলার তদন্ত করে নিহতের আপন মামা মো. রিপন মিয়া ও তার দুই সহযোগী রবিউল এবং মোজাফফরকে গ্রেফতার করে। ওই তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় জড়িত না থাকায় এজাহারভূক্ত তিনজনকে চার্জশিটে তাদের নাম বাদ দেন। রিপন মিয়াসহ দুই সহযোগী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আরও পড়ুনঃ   গুলিতে না মরলে জবাই-পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের রোমহর্ষক বর্ণনা

পুলিশ ২০১৬ সালে ৬ জানুয়ারি রিপন মিয়া, রবিউল ও মোজাফফরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে রিপন মিয়া স্বীকার করে যে, পূর্ব শত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষ করিম গংদের ফাঁতেই সে তার ভাগ্নিকে হত্যা করে। মামলায় আটজন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকোট হারিছ উদ্দিন আহম্মদ, আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ওয়াহিদুজ্জামান আকন (তমিজ)।

মো. মিলটন খন্দকার

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × one =