সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে অবস্থান নিয়েছে। আর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে ওই বিবৃতির আপত্তি জানিয়েছে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি।

বুধবার দেশটির নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, কেবল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় চেষ্টাতেই এ সমস্যার সমাধান আসতে পারে বলে তার দেশ বিশ্বাস করে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের ওই রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর গত ২৫ অগাস্ট থেকে সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। গত দশ সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে ওই সহিংসতাকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে চিহ্নিত করে এর সমালোচনা করে আসছে জাতিসংঘ।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসানে সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে একটি বিবৃতি (প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট) দেওয়া হয়, যেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়- রাখাইন রাজ্যে যাতে সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করা হয়, মিয়ানমার সরকারের প্রতি সেই আহ্বান জানাচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ।

সেই সঙ্গে রাখাইনে বেসামরিক প্রশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এবং মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ও দায় পূরণে মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।

এর জবাবে বুধবার মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চির দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের ওই প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চলমান আলোচনার জন্য ‘মারাত্মক ক্ষতিকর’ হতে পারে।

বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে, মানবিক কারণে আপাতত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। এ সমস্যার পেছনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই; সমস্যার সৃষ্টি ও কেন্দ্রবিন্দু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানে নিহিত।

আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মধ্যে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে যুক্ত করাসহ কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রস্তাবের কোনো জবাব না দিয়েই গত ৩১ অক্টোরব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেরির জন্য উল্টো বাংলাদেশকে দোষারোপ করেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চির দপ্তরের মহা পরিচালক জ তাই।

বহুপক্ষীয় উদ্যোগের বিরোধিতায় সু চি তার বিবৃতিতে বলেছেন, এ বিষয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের আলোচনা ‘মসৃণভাবে ও প্রত্যাশা অনুযায়ীই’ চলছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে আগামী ১৬ ও ১৭ নভেম্বর মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও সু চি বলেছেন।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 1 =