প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী শনিবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। এই অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নতুন চার লাখ এবং আগে থেকে থাকা চার লাখ, অর্থাৎ মোট আট লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা চাইবেন। প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইবেন। সীমান্ত অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল বাংলাদেশের জন্য একটি সঙ্কট হয়ে দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়া উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ সব কথা জানিয়েছেন। এতে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও অতিমাত্রায় বল প্রয়োগে উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল যে বিবৃতি দিয়েছে, বাংলাদেশ তাকে স্বাগত জানায়। নিরাপত্তা পরিষদের এ অবস্থান খুবই সময় উপযোগী ও দৃঢ়। বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এ ধরনেরই একটি অবস্থান আশা করছিল।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে প্রস্তাব মিয়ানমার প্রত্যাখান করেছে – এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাহমুদ আলী বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর অং সান সু চি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তার দফতরের একজন মন্ত্রীর সাথে নিউইয়র্কে আমার কথা হবে। সে সময় এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকবে।

জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × five =