রাশেদুল ইসলাম, থিম্পু থেকে:  না, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা হাতে নেওয়া হলো না বাংলাদেশের। নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে ভারত। ফলে ভুটানের সঙ্গে সন্ধ্যার ওই জয়টা শুধুই রানার্সআপ হওয়ার সান্ত্বনা হয়ে রইল। তবে, অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশকে দিয়েছে এর চেয়েও বড় কিছু। এ টুর্নামেন্টই তো আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, ফুটবল নিয়ে এখনো স্বপ্ন দেখা যায়। কারণ, বাংলাদেশের যুব দলে যে আছে জাফর ইকবালরা!

জাফর ইকবাল ২-০ ভুটান। শেষ ম্যাচের স্কোরবোর্ড এভাবে লিখলে ভুল হবে না। কারণ বাংলাদেশ নয়, জাফর ইকবালের কাছে হেরেছে ভুটান। বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগ জাফর ছাড়া বাংলাদেশ ও দ্বিতীয় ভাগ জাফরের বাংলাদেশ। যার প্রথম ভাগে গোলশূন্য ড্র ও দ্বিতীয় ভাগে দুই গোলের জয়। যে জয়ে মোচন হলো গত বছর এশিয়ান কাপের প্রাক্‌-বাছাইপর্বে ভুটানের কাছে হারের ‘চাংলিমিথাং’ কলঙ্ক। অক্টোবরে সেই কলঙ্কের দিনে জাতীয় দলের জার্সিতে সাইডবেঞ্চে ছিলেন জাফর। আজ তিনি অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে যুব দলের নায়ক। ম্যাচ শেষে জাফরের কণ্ঠে প্রতিশোধ, ‘গত বছর ভুটানের কাছে হারার দিন আমি সাইডবেঞ্চে কেঁদেছিলাম। তাই আজ গোলের জন্য জিদ নিয়েই নেমেছিলাম। গোলও পেয়েছি।’
জাফরকে একাদশে না রেখে একটা ফাটকাই খেলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি। আসলে সাদা চোখে যা ফাটকা, কোচিং শাস্ত্রে তা কৌশল। ম্যাচ জেতানোর জন্য তাঁর তূণে কী মোক্ষম বাণ ছিল, তা শুধু রক্সিই জানতেন। না হলে কি আর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটের মোক্ষম সময়ে জাফরকে মাঠে নামান তিনি।
শিরোপা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে প্রথমত জিততে হবে। অথচ ৮০ মিনিটেও গোলশূন্যও ড্র। থিম্পুর চাংলিমিথাংয়ে জাদুকর টুপি খুললেন ৮১ মিনিটে। আর বেরিয়ে আসল আশ্চর্য এক গোল! ডান প্রান্তে অ্যাটাকিং থার্ডের শুরু থেকে বল নিয়ে গতিতে ভুটানের দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে দূরের পোস্টে প্লেসিং (১-০)। শিরোপা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার অক্সিজেন পেল বাংলাদেশ। তিন মিনিট পরে আবার, বাংলাদেশ পেল শিরোপার সুবাতাস। বাম প্রান্তে ভুটানিজ রাইটব্যাককে স্টেপ ওভারে ঘোল খাইয়ে কাছের পোস্টে নিখুঁত প্লেসিং। মুহূর্তেই থেমে গেল গ্যালারির প্রায় তিন হাজার দর্শকের ‘লেটস গো ভুটান’ গর্জন।
অথচ জাফর নামার আগে একটি গোলের জন্য হাপিত্যেশ করতে হচ্ছিল বাংলাদেশকে। পুরো ম্যাচের নাটাই নিজেদের হাতে থাকলেও খোলা যাচ্ছিল না গোলমুখ। সুফিল, বিপলু, স্বাধীনরা অ্যাটাকিং থার্ডে ঢুকলেই কমপক্ষে ভুটানের আটজনের রক্ষণ দেয়াল। এর পাল্টা কৌশলে রহমত-রকিরা উইং দিয়ে আক্রমণে গিয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই গোলমুখ খোলা যায়নি। অবশেষে জাফর বদলি হিসেবে নামার পরই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট।
শুধু জাফর নন, টুর্নামেন্ট-জুড়েই বাংলাদেশ যেমন খেলেছে, তাতে ফুটবল নিয়ে আশা জেগেছে মানুষের। দর্শক-সমর্থকেরাও স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এটাও কি কম পাওয়া নয়?

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + eight =