যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে জোয়ারাধার (টিআরএম) বাস্তবায়ন আরও এক বছর পেছাচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে জোয়ারাধার বাস্তবায়ন শুরুর কথা থাকলেও তা ২০১৯ সালের আগে হচ্ছে না বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে।

জোয়ারাধার বাস্তবায়ন এক বছর পেছানোর কারণে ভবদহ অঞ্চলের কৃষকের ভোগান্তি বাড়বে। প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা যায় না।

গত ১৬ মার্চ পাউবো ও ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের উদ্যোগে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় কর্মশালা হয়। সেখানে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছিলেন, টিআরএম পাউবো উদ্ভাবন করেনি, করেছে স্থানীয় জনগণ। এর ফলাফলও ভালো। কিন্তু এবার টিআরএম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রক্রিয়া চলছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে টিআরএম বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এ ঘোষণার পর জোয়ারাধার বাস্তবায়নে কোনো কার্যক্রম আর এগোয়নি। ফলে গত বর্ষা মৌসুমে ভবদহ অঞ্চলে আবার জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জলমগ্ন হয়ে পড়ে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার প্রায় ১০৫টি গ্রাম। এতে ভবদহ অংশে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে এবার আমন ধান হয়নি।

পাউবোর যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘যশোরের ভবদহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা’ হয়। এতে ভবদহ ও তৎসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ৪৩৫ কোটি ৭১ লাখ ২৩ হাজার টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর কয়েকটি খাত বাদ দিয়ে ৪৩০ কোটি টাকার একটি ডিপিপি তৈরি করা হচ্ছে। পাউবো থেকে ডিপিপিটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে তা পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। পরিকল্পনা কমিশনে পাস পাওয়ার পর তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) যাবে। সেখানে অনুমোদনের পর জোয়ারাধার বাস্তবায়ন শুরু হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস লাগবে। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জোয়ারাধার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

আরও পড়ুনঃ   বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল : প্রধানমন্ত্রী

ওই সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জাফর আহমেদ খান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সভায় আরও ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক প্রমুখ।

ওই সভায় উপস্থিত পাউবোর খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যশোর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল) অখিল কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে জোয়ারাধার বাস্তবায়ন শুরু হবে। এ সময় যাতে ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা না হয়, সে জন্য এক্সকাভেটর দিয়ে নদী খননের কাজ অব্যাহত রাখা হবে।

ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘মন্ত্রীর কাছে আমরা মাঘী পূর্ণিমার (৩১ জানুয়ারি) আগে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে তা করা না হলে ফেব্রুয়ারি থেকে পলি এসে শ্রী, হরি ও টেকা নদী ভরাট হয়ে যাবে। আগামী বর্ষা মৌসুমে ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দশ লক্ষাধিক মানুষ।’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − five =