ম্যাচের শুরুতেই সব আকর্ষণে জল ঢেলে দিয়েছিল বার্সেলোনা। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসিকে বেঞ্চে রেখেছিলেন কোচ এরনেস্তো ভেলভের্দে। এমনিতেই এই মৌসুমে বড্ড চাপ যাচ্ছিল তাঁর ওপর। তাঁর জাদুতেই লা লিগার শির্ষস্থানে জায়গাটা পাকাপোক্ত করেছে বার্সেলোনা। তাই মেসিকে ছাড়া বাকি দল কেমন খেলে, সেটা বুঝে নিতেই যেন তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা। সেই পরীক্ষায় উতরে গিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। শেষ ম্যাচেও ২-০ গোলের জয় পেয়েছেন সুয়ারেজ-আলকাসেররা।

শক্তিমত্তায় স্পোর্টিং লিসবনের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে কাতালান ক্লাবটি। তাই সহজ জয় প্রতীক্ষা করেছিল বিশ্বজোড়া ভক্ত-সমর্থকেরা। অথচ প্রথমার্ধে যেন ঘুমিয়ে পড়ল মেসিবিহীন বার্সেলোনা। ক্লান্তিহীন বল পাসিংকে শিল্পে পরিণত করা জাদুকর ছিলেন না বলেই হয়তো খুব একটা পরীক্ষা না দিয়েই পার পেয়ে গেলেন লিসবনের গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিও। একই সঙ্গে ভেলভের্দের কপালে চিন্তার ভাঁজটা কিন্তু বাড়ছিল। মেসিকে নেমেই যদি সব গোল বের করতে হয় তবে সেটা আর দলীয় খেলা হলো কীভাবে? মৌসুমের সব ম্যাচে তো খেলতে পারবেন না মেসি, সেসব ম্যাচে কী করবে বার্সেলোনা?

বিরতির পরও একঘেয়ে ফুটবলে সময় কাটছিল ব্লুগ্রানাদের। বল নিজেদের পায়ে রেখে যেন বোকা হয়ে গিয়েছিলেন পিকে-সুয়ারেজরা। ৫৯ মিনিটে ডেনিস সুয়ারেজের কর্নার থেকে ঘুম ভেঙে জাগলেন পাকো অ্যালকাসের। ক্যাম্প ন্যুও যেন অনেকক্ষণ পর প্রাণ ফিরে পেল। অ্যালকাসেরের হেড গোলরক্ষক প্যাট্রিসিওকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

৬২ মিনিটে বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অ্যালেক্স ভিদালের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। স্বাভাবিকভাবেই বার্সেলোনার খেলাও বদলে গেল কিছুটা। বেশ কিছু দ্রুত আক্রমণে দলকে প্রায় এগিয়েই দিয়েছিলেন মেসি। ৭৪ মিনিটে আন্দ্রে গোমেজের সঙ্গে পাস আদান–প্রদান করে তাঁর নেওয়া শট অল্পের জন্য গোল হয়নি। এ ছাড়া ৭৭ লুকাস দিনিয়ে ও ৭৯ মিনিটে নিজেই আরও একটি আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি বার্সা। উল্টো যোগ করা সময়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন সাবেক বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেরেমি ম্যাথিউ। বক্সের বাঁ প্রান্তে জায়গা পেয়েছিলেন সুয়ারেজ। তাঁর ক্রস যখন নিশ্চিতভাবেই খুঁজে নিচ্ছিল অ্যালকাসেরকে, তখন শেষ চেষ্টা করেছিলেন ম্যাথিউ। তাতে শেষ রক্ষা হয়নি, বরং বল জড়িয়ে জায় নিজেদের জালে। ক্যাম্প ন্যুতে দুঃস্বপ্নের প্রত্যাবর্তন ঘটল তাঁর।

আরও পড়ুনঃ   ছোটদের বিশ্বকাপেও ভারতের কাছে হারের মুখ দেখল বাংলাদেশ

আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়েছিল বার্সার। পরের রাউন্ডে যেতে লিসবনকেই অলৌকিক কিছু করতে হতো। ২-০ গোলের আধিপত্যের এক জয় দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল ভেলভের্দের শিষ্যরা।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + 16 =