জয় দিয়ে সফর শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগামীকাল নিউল্যান্ডসে টি-২০ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে সফরকারী ভারতীয় ক্রিকেট দল। পক্ষান্তরে জয় দিয়ে সিরিজ শেষ করতে চায় প্রোটিয়ারাও। চলমান সফরে টেস্ট সিরিজে পরাজয়ের স্বাদ নিলেও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার ৫-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করে টিম ইন্ডিয়া। এরপর জোহানেসবার্গে প্রথম ম্যাচ জিতে টি-২০ সিরিজ শুরু করে ভারত। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-১ সমতা আনে স্বাগতিকরা। যে কারণে আগামীকাল কেপ টাউনের ম্যাচটি পরিণত হয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।
নিউল্যান্ডসে এর আগে কখনো ভারত টি-২০ ম্যাচ খেলেনি। আবার এখানে প্রোটিয়াদের রেকর্ডও খুব আশা ব্যাঞ্জক নয়। সংক্ষিপ্ত ভার্সনে এ মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা এর আগে মোট আটটি ম্যাচ খেলে পাঁচটিতে পরাজিত হয়েছে। তিনটি জয়ের দুটি এসেছে ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে একটি মাত্র জয় এসেছে ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
আগের ম্যাচে জয় পাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা স্বভাবতই অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। সিরিজ শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যান বোলারদের বিপক্ষে শক্ত পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এবার তৃতীয় ম্যাচে প্রয়োজন কেবলমাত্র যথার্থ বাস্তবায়ন।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও অপরবির্তিত দল নিয়েই মাঠে নামবে প্রোটিয়ারা। হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত হলেও জন-জন স্মুটস এখনো নিজের জাত চেনাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া ডিভিড মিলারও ওয়ানডে সিরিজ থেকেই ধুকছেন।
ফর্মে থাকা জসপ্রিত বুমরাহর ইনজুরি নিয়ে ভারতীয় শিবিরে রয়েছে কিছুটা দুঃশ্চিন্তা। তার ফিটনেস নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। তাই সংক্ষিপ্ত ভার্সনের এ ম্যাচে তাকে নিয়ে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট কোন প্রকার ঝুঁকি নেবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। আবার মাত্র দুই সপ্তাহ পর শ্রীলংকার মাটিতে রয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজ। যেখানে স্বাগতিক লংকানরা ছাড়া রয়েছে উপমহাদেশের আরেক দল বাংলাদেশ।
ভারতীয় দলের বোলিং কম্বিনেশন আরেক দুঃশ্চিন্তা। এ ফর্মেটে বাঁ-হাতি একজন পেসার খেলিয়ে কিছুটা পরীক্ষা করে নিয়েছে। তবে জয়দেব উনাদখত এ পর্যন্ত রান খরচ করেছেন অনেক বেশি। এ পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭৮ ইকোনোমি রেটে ৭৫ রানে ২ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। যুজবেন্দ্রা চাহাল খরচ করেছেন আরো বেশি রান।
সে ক্ষেত্রে বোলিং কম্বিনেশন পরিবর্তন করতে পারেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি।
বুমরাহ খেললে সেরা একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন উনাদখত। সেঞ্চুরিয়নে বেশ চাতুর্যের পরিচয় দিয়েছেন শারদুল ঠাকুর। চার ওভার বোলিং করে ৩১ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
এছাড়া ওয়ানডে সিরিজ থেকেই এখানকার পিচ মন্থর। সুতরাং এবারও একই ধরনের পিচে খেলতে হতে পারে ভারতকে।
সেদিক বিবেচনায় চাহালের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চির ধরায় গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে নিজকে মেলে ধরতে পারেন কুলদীপ যাদব। আবার স্বাগতিক দলের পেস মোকাবেলার বিষয়টি বিবেচনা করে অক্ষর প্যাটেলকে বিবেচনা করতে পারে ভারত। তৃতীয় পেসার হিসেবে থাকতে পারেন হার্ডিক পান্ডিয়া।
ওয়ান্ডারার্স টেস্ট জয় দিয়ে মোমেন্টাম শুরু করে ভারত। এরপর তা অব্যাহত রেখে ৫-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয় করেছে উপমহাদেশের দলটি।

আরও পড়ুনঃ   এক ক্যাচেই আলোচনায় লিটন

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − 14 =