শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কিভাবে কী হয়ে গেল এটা নিয়ে টেনশনে রয়েছেব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। সঠিক উত্তরটা খোঁজার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সে উত্তর মিলবে কোথায়? দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারটা বেশ কষ্ট দিচ্ছে। তিনটি সিরিজই নিয়ে গেছে লঙ্কানরা বাংলাদেশের হাত থেকে ছিনিয়ে। আফসোসেও পুড়ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। কিন্তু এখন তো আর আফসোস করে লাভও নেই। কিন্তু মার্চের প্রথম সপ্তাহে আরেকটি চ্যালেঞ্চিং সিরিজ শ্রীলঙ্কাতেই। সেখানে স্বাগতিকরা ছাড়াও রয়েছে ভারত। ফলে ওই সিরিজের আগে নিজেদেরকে আরেকটু গুছিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে।

একজন হেড কোচ তো চাইলেই পাওয়া যাবে না। তাছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন যে পর্যায়ে চলে গেছে সেখানে থেকে চাইলেই যাকে তাকে এনে পরীক্ষার ক্ষেত্র বানিয়ে ফেলা সম্ভবপর না। মঙ্গলবার বিসিবি সভাপতি তার অফিসে ডেকেছিলেন ক’য়েকজনকে। তার মধ্যে ছিলেন জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, সাকিব আল হাসান। বিসিবি প্রধান সরাসরি জানতে চেয়েছেন সদ্য সমাপ্ত সিরিজের ভরাডুবির কারণ।
বিভিন্ন প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও হয়েছে। সেখানে সিরিজ ছাড়াও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার অংশ বিশেষও ছিল।

ওই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল মাশরাফি বিন মতুর্জা। টি-২০ ক্রিকেটে মাশরাফিকে আবারো ফিরিয়ে আনার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তবে মাশরাফিকে প্রস্তাব দিলে তিনি যদি ফেরেন তাহলেই। বিষয়টা মাশরাফির ওপরই ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। এতে করে টি-২০ ক্রিকেটে মাশরাফির ফেরার একটা সুযোগ আবার তৈরি হলো। কিন্তু প্রশ্ন, মাশরাফি ফিরবেন তো?

গত শ্রীলঙ্কা সফরেই মাশরাফিকে টি-২০ থেকে সরে যাবার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। বিসিবিই সেটা করেছে। তখনই আলোচনা হয়, এটার পেছনে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে। বিসিবি শুধু তার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। মাশরাফি অনেক কষ্ট বুকে চেপে সরে যান টি-২০ থেকে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। মাশরাফি যদি ওয়ানডের অধিনায়ক থাকতে পারেন, তাহলে টি-২০ তো তার চেয়েও ছোট পরিসরের। তাহলে সে মাশরাফিকে কেন ছেঁটে ফেলা? এর সঠিক কোনো উত্তর মেলেনি। অথচ বিপিএলে এবারো মাশরাফির রংপুর রাইডার্সই চ্যাম্পিয়ন। বিপিএলে মাশরাফির নেতৃত্বের সামনে নেই অন্য কেউ। পাঁচ আসরের চারটি শিরোপাই হাতে ওঠে মাশরাফির। কিন্তু সেই মাশরাফিকেই হটিয়ে দেয়া।

আরও পড়ুনঃ   গোলের রেকর্ড, হামসিকের জন্য ম্যারাডোনার উপহার

বিসিবি অনুধাবন করেছে মাশরাফি ছাড়া চলবে না। বিশেষ করে ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬ জনকে অভিষেক ঘটিয়েও কোনো ফল যেখানে হয়নি, সেখানে শ্রীলঙ্কার মাটিতে আর কী হবে। এ জন্যই মাশরাফিকে স্মরণ। বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, দলে সবই ছিল। ছিল না একটা বিষয় লীডারশিপ। সাকিব আল হাসানও ইনজুরিতে ছিলেন অনুপস্থিত। ওই মুহূর্তে অনেক লীডারশিপের বড্ড অভাব অনুভূত হয়। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের সঠিক পারফরমেন্স করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান বা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত হতে পারফেক্ট বুদ্ধিদাতা কেউ না থাকার জন্যই প্রথম ম্যাচে ১৯২ রান করেও হার। পরের ম্যাচেও সেই একই অবস্থা। ফলে ওয়ানডের মতো মাশরাফিকে প্রয়োজন টি-২০ তেও। তাই বিসিবি মুখে মাশরাফির ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে মাশরাফিকে সবিনয় অনুরোধ জানানো হবে। অন্তত দলের এমন পজিশনে তিনি যেন দলে যোগ দেন।

মাশরাফি কী করবেন না করবেন সেটা জানা না গেলেও যে ক্রিকেটার সারাক্ষণই বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য ভাবেন, তিনি হয়তো জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করবেন না। ফিরিয়ে দেবেন না বিসিবিকে। কারণ লক্ষ-কোটি ভক্তরাও চায় মাশরাফি ফিরুক টি-২০ এবং দলটাকে আবারও সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তার ভূমিকা থাকুক। বিসিবি সভাপতি অবশ্য টেকনিক করে মাশরাফির বোলিংটাকে টি-২০ ’র জন্য অপরিহার্য বলে তাকে ফেরানোর কথা জানিয়েছেন। আসলে মূল কারণ দলটাকে পুর্নগঠনে তার সহায়তা প্রয়োজন সেটাই বড় প্রয়োজন ক্রিকেটার মাশরাফিকে- এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − three =