বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই নেতাকর্মীদেরগ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় দলের তরুণরা যখন তাকে আদালতে নিয়ে যায়, তখন প্রতিদিন ৫০-৬০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর উদ্দেশ্য একটাই, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। এছাড়া মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাবিতে যা ঘটেছে তা আওয়ামী লীগের চরিত্র। এটা ছাত্রলীগের নতুন কোনো ব্যাপার না। তারা বহুবার শিক্ষকদের মেরেছে, ছাত্র-ছাত্রীদের মেরেছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা শামা ওবায়েদ, আমিনুল হক, মীর সরফত আলী সপু, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন সংগঠনটি এই অবস্থা চালু করেছে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয়, সমগ্র দেশে, সমাজে, সমগ্র রাষ্ট্রে তারা জোর করে, মাস্তানি করে, গুন্ডামি করে ক্ষমতা দখল করে থাকতে চায়। যখনই তাদের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিয়েছে তখনই তারা (ছাত্রলীগ) আক্রমণ করেছে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর। এটা সমর্থন দেয়া যায় না, এর অবসান  হবেই। এদেশের মানুষ নিসন্দেহে তাদের পরাজিত করবে।
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশের জনগণ ভোটে যাবে না। সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে জাতীয় নির্বাচন যাতে না হয়। সত্যিকার অর্থে যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তাহলে তারা আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেজন্যই তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে সংবিধান সংশোধন করেছে। আমরা নির্বাচনকালীন সময়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই, সমান সুযোগ চাই। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে দেশের জনগণ অংশগ্রহণ করবে না। যতই নিপীড়ন-নির্যাতন করা হোক না কেনো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি থেকে জনগণকে দূরে সরানো যাবে না। দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীসহ প্রতিদিন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একটাই বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। এই অবস্থা চলবে না, এই অবস্থা কখনোই চলবে না।
আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দুপুরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বনানীতে কোকোর কবর জিয়ারত করে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে কবরস্থানের বাইরে ‘আরাফাত রহমান কোকো যুব ক্রীড়া পরিষদ’ ও ‘আরাফাত রহমান স্মৃতি পরিষদের’ যৌথ উদ্যোগে ?গরীব ও দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন বিএনপি মহাসচিব। সকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা কোকোর কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।

আরও পড়ুনঃ   ডিভিশন পেলেন খালেদা জিয়া

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 − 5 =