ভারতে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোম তাজমহলকে ‘ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক’ বলায় বিভিন্ন মহল থেকে তার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

গতকাল (রোববার) উত্তর প্রদেশের সারধনায় এক জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় সঙ্গীত সোম তাজমহলের নির্মাতাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তিনি ইতিহাস বদলেরও হুমকি দিয়েছেন।

বিজেপি’র ওই বিধায়ক একসময় মুজাফফরনগর দাঙ্গায় সহিংসতা ছড়ানোর অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন। খবর পার্সটুডের।

সঙ্গীত সোম বলেন, ‘তাজমহলের নির্মাতা (সম্রাট শাহজাহান) নিজের বাবাকেই বন্দি করেছিলেন। হিন্দুদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন। এরাই যদি আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকেন, তা হলে তা খুবই দুঃখের। আমরা ওই ইতিহাস পরিবর্তন করে দেবো।’

সঙ্গীত সোম মুঘল বাদশাহ বাবর, আওরঙ্গজেব, আকবরকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করে ইতিহাস থেকে তাদের নাম মুছে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেন।

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আজ (সোমবার) প্রশ্ন ছুঁড়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘লালকেল্লাও বিশ্বাসঘাতকরা তৈরি করেছিলেন, তাহলে মোদি সেখান থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা বন্ধ করে দেবেন?’

তিনি বলেন, ‘মোদি (প্রধানমন্ত্রী) এবং যোগী (উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী) কি দেশি এবং বিদেশি পর্যটকদের বলবেন তাজমহল দেখতে আসবেন না? এমনকি দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসও বিশ্বাসঘাতকরা তৈরি করেছিলেন। তাহলে মোদি কি এখানে বিদেশি মেহমানদের আপ্যায়ন করা বন্ধ করে দেবেন?’

ওয়াইসি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে উদ্ধৃত করে জনগণের দেয়া করের টাকায় ধর্মস্থান নির্মাণ বা সংস্কার করা যায় না বলে মন্তব্য করে উত্তর প্রদেশ সরকার কীভাবে জনগণের টাকায় রামের একশ মিটার মূর্তি নির্মাণ করতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র সিপি রাই বলেন, ‘বিজেপি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। ইতিহাস পরিবর্তন করা যায় না। ইতিহাসের কাছ থেকে আমাদের ভালো ও মন্দ দু’টোই শেখা উচিত। নিচু মানসিকতার মানুষরাই এমন মন্তব্য করতে পারেন!’

সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র জুহি সিং প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে কী তাজমহলের পাশাপাশি লালকেল্লা, জামে মসজিদও কি ভেঙে ফেলবেন? বিজেপি নেতাদের সবকা সাথ, সবকা বিকাশের (সকলের সঙ্গে সবার উন্নয়ন) স্লোগান পুনরায় মনে করা উচিত।’

কংগ্রেস মুখপাত্র বীরেন্দ্র মাদান বলেন, ‘সঙ্গীত সোমের ভাষা শুনে অবাক হইনি কারণ তা আরএসএসের ভাষা। এই সরকার মুখে ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’-র কথা বলে কিন্তু আসলে তারা কেবল ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষকে বিভক্ত করার বার্তা দিচ্ছে। যেদিন থেকে এদের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় এসেছে সেদিন থেকে ভারতের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা হচ্ছে যা দুর্ভাগ্যজনক।’

সম্প্রতি বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশ সরকারের পুস্তিকায় রাজ্যে পর্যটনের প্রসার ঘটাতে বেশ কিছু পর্যটন স্থলের উল্লেখ করা হলেও তাতে তাজমহলকে বাদ দেয়া হয়।

বিরোধীদের পাশাপাশি দেশি বিদেশি গণমাধ্যমে বিষয়টি উল্লেখ করে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের হিন্দুত্ববাদী মনোভাব এবং মুসলিম আমলে তৈরি হওয়ার জন্য পর্যটন পুস্তিকা থেকে তাজমহলের নাম বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও জানিয়ে দেন তাজমহল এ দেশের ঐতিহ্য নয়। কিন্তু পরে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে মুখ্যমন্ত্রী তার মত পরিবর্তন করেন।

একইভাবে তাজমহল নিয়ে বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোমের বিতর্কিত মন্তব্যেরও দায় নেয়নি বিজেপি। এটিকে সঙ্গীত সোমের ব্যক্তিগত মত বলে দায় ঝাড়ার চেষ্টা করেছেন বিজেপি নেতা জিভিএল নরসিমা রাও।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × four =