তৃতীয় দিনের মতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। দেশটির বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাতে ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর গুলিতে দু’জন নিহত হয়েছেন।

টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দু’জনের নিহতের কথা বলা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেনি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দোরুদে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, একাধিক লাশ সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, ইরানে তৃতীয় দিনের মতো রাজপথে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর বেশ কিছু সরকারি ভবনে হামলা ও পুলিশের সাথে উত্তেজিত জনতা সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। অর্থনৈতিক সঙ্কট ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ক্ষুব্ধ ইরানিদের এই বিক্ষোভকে ২০০৯ সালে সংস্কারপন্থী মিত্রজোট ক্ষমতায় আসার পর এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ হিসেবে বলা হচ্ছে।

বিবিসি বলছে, অবৈধ সমাবেশ এড়িয়ে চলার যে পরামর্শ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দিয়েছিল তা উপেক্ষা করেই প্রতিবাদ করছেন বিক্ষোভকারীরা। ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওর বরাত দিয়ে দোরুদে শহরে গুলিতে দুই বিক্ষোভকারীর প্রাণহানির খবর দিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন। সরকারি ভবনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতিবার ইরানের মাশাদ শহরে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। শুক্রবার দেশটির আরো বেশ কয়েকটি বড় শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি শক্তি ও বিপ্লববিরোধীদের মদদ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন শহরে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন।

বিক্ষোভ থেকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতাও করছেন অনেকে। মাশাদ শহরে অনেকেই ‘লেবানন নয়, গাজা নয়, ইরানের জন্য আমার প্রাণ’ স্লোগানও দেয়।

আরও পড়ুনঃ   কে এই প্রবল ক্ষমতাধর সৌদি যুবরাজ?

দেশটির অভ্যন্তরীন সঙ্কটের চেয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরছেন তারা।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে এটা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে যে আসলে ইরানে কী ঘটছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের আবহার শহরে বিক্ষোভকারীরা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিযুক্ত বড় ব্যানারে অগ্নিসংযোগ করেছেন। সেন্ট্রাল ইরানে দেশটির সরকারপন্থী বাসিজ মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়েও আগুন দিয়েছেন তারা।

বিবিসি বলছে, রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ারে ব্যাপক জন-সমাগম ঘটিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে বিপ্লবী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ এক কমান্ডার বলেছেন, শহরের পরিস্থিতি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + five =