দারচিনি সাধারণত আমরা মশলা হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। আবার অনেক চায়েও দারচিনি ব্যবহার করে। কিন্তু জানেন কি দারচিনি ওজন কমাতেও সাহায্য করে?

এতদিন পর্যন্ত এই প্রকৃতিক উপাদানটির এ গুণটি সম্পর্কে একেবারেই অবগত ছিলেন না বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যদি দারচিনি খাওয়া যায়, তাহলে ফ্যাট সেলেরা বার্ন হতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

কিন্তু প্রশ্ন দারচিনি এই কাজটি করে কিভাবে? ইউনিভার্সিটি অব মিচিগানের গবেষকদের করা এই গবেষণায় দেখা গেছে দারচিনির অন্দরে উপস্থিত সিনেমেলডিহাইড নামক এক এসেনশিয়াল ওয়েল এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ফ্যাট সেল বার্ন করার প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেদ ঝরতে শুরু করে। তবে এই প্রকৃতিক উপাদানটি যে কেবল ওজন ঝরায়, এমন নয়। সেই সঙ্গে শরীরের আরও অনেক উপকারে লেগে থাকে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি মেটায়

শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে যে যে উপাদানগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তার মধ্যে অন্যতম। শুধু তাই নয়, শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখতেও এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর দারচিনি, সেই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রাই বৃদ্ধি করে শরীরের অন্দরে।

শরীরের প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়

দেহের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ কোষদের ক্ষতি হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই তো শরীরে যাতে কোনওভাবে প্রদাহের মাত্র বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কিভাবে? প্রতিদিন নিয়ম করে দারচিনি খাওয়া শুরু করুন। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে! আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে একাধিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আরও পড়ুনঃ   সাপের মতো খোলস বদলায় এই ‘সর্পকন্যা’

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে

দারচিনির মধ্যে থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান রক্তচাপ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার এই দুটি রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসলে হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো চিন্তাই থাকবে না। দারচিনি খাওয়ার পরামর্শ দেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকেরাও।

ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে

গত কয়েক বছরে এত মাত্রায় সুগার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে যে আমাদের দেশ সারা বিশ্বের মধ্যে ডায়াবেটিস ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের ডায়াবেটিসের মার থেকে বাঁচাতে দারচিনির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা দরকার! কারণ এই মশলাটি শরীরে প্রবেশ করার পর বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যারা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের উৎপাদনও বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

অ্যালঝাইমারের মতো রোগকে দূরে রাখে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন সেলের কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু সেল শুকিয়ে যেতেও শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের কগনিটিভ ফাংশন তো কমেই, তার পাশাপাশি ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমারসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দারচিনির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার সেলের জন্ম নেয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে টিউমার হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।

সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমায়

দারচিনিতে থাকা সিনেমেলডিহাইড নামক একটি এসেনশিয়াল অয়েল দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটা শক্তিশালী করে দেয় যেকোনো ধরনের জীবাণুই ধারে কাছে ঘেঁষার সাহস পায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen + five =