চার বছরের শিশু আফসানা। থাকত সৎমায়ের সঙ্গে। আজ সোমবার সকাল আটটার দিকে সৎমায়ের ঘর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির সৎমা তাদের কাছে বলেছেন, ‘দুষ্টুমি’ করায় শিশুটির গলা টিপে ধরেন তিনি। একপর্যায়ে শিশুটি মারা যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের রাখালছড়া গ্রামে। মৃত শিশু আফসানার বাবা মোহাম্মদ আলমগীর ঢাকায় ব্যবসা করেন। আলমগীর দ্বিতীয় বিয়ে করার পর আফসানার মা খালেদা বেগম রাগ করে তাঁর বাবার বাড়ি চলে যান। তখন থেকে আফসানা সৎমা নাসিমা বেগমের (২২) সঙ্গে থাকত।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী খালেদাকে না জানিয়ে আলমগীর প্রায় দুই বছর আগে নাসিমাকে বিয়ে করেন। এরপর খালেদা রাগ করে বাবার বাড়ি চলে যান। খালেদার বাবার বাড়ি একই গ্রামে। তিনি প্রায়ই মেয়েকে দেখতে যেতেন। আজ সকাল আটটার দিকে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আফসানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় আফসানার সৎমা নাসিমাকে আটক করা হয়।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আহাদ বলেন, নাসিমা বেগম প্রথম দিকে স্বীকার না করলেও পরে পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। পুলিশকে তিনি বলেন, ঘুম থেকে উঠেই আফসানা দুষ্টুমি করছিল। কয়েকবার বারণ করার পরও দুষ্টুমি চালিয়ে যাওয়ায় তিনি আফসানাকে গালমন্দ করেন। এ সময় আফসানা তাঁর পেটে লাথি মারলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আফসানার গলা টিপে ধরেন। এরপর মারা যায় আফসানা।

ওসি জানান, নাসিমাকে একমাত্র আসামি করে আফসানার মা খালেদা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। কাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় নাসিমার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হবে।

আলমগীরের মুঠোফোনের সংযোগ বন্ধ পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আফসানার মা খালেদা বেগম বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা। সংসারে একা থাকতেই নাসিমা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ   উত্তরা জোনের সাবেক ডিসিকে হাইকোর্টে তলব

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 4 =