ঢাকা বা চট্টগ্রামে দামি ফ্ল্যাট কিনে সব টাকা ফুরিয়ে ফেলেছেন! নিজের টাকায় হোক বা ঋণ নিয়েই হোক, ফ্ল্যাটটির মালিক আপনি, কিন্তু আবার মালিকও নন। হ্যাঁ, ফ্ল্যাটটি যে আপনি নিবন্ধন করতে পারছেন না! কারণ, আপনার হাত খালি। মনের ভেতর তাই সব সময় একটু খচখচানিও কাজ করে!

কোনো অসুবিধা নেই। কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে হবে না। আপনার জন্য টাকার বান্ডিল নিয়ে এগিয়ে আসছে সরকার। সরকার মানে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)।

টাকার অভাবে নিবন্ধন না হওয়ার কথা মাথায় রেখেই সংস্থাটি দেশে প্রথমবারের মতো ‘ফ্ল্যাট নিবন্ধন ঋণ’ নামে একটি ঋণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে শিগগিরই। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সায় দিয়েছেন, তাই গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এই ঋণ চালু করা যাবে বলে বিএইচবিএফসিকে জানিয়ে দিয়েছে।

বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেবাশীষ চক্রবর্তী গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব প্রস্তুতি শেষ। আমরা শুধু দিন ঠিক করে ঋণ কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দেব। হতে পারে চলতি সপ্তাহ থেকেই।’

বিএইচবিএফসির ফ্ল্যাট ঋণ দেশের যেখানে চালু আছে অর্থাৎ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা সদরের ফ্ল্যাট মালিকেরা এই নিবন্ধন ঋণ পাবেন। সংস্থাটির কাছে ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে নিবন্ধনের জন্য ঋণ নেওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। আর সুদের হার ঢাকা ও চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং এর বাইরে অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯ শতাংশ।

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে শর্তও ঠিক করেছে বিএইচবিএফসি। শর্ত হচ্ছে, আবাসন (ডেভেলপার) কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কোনো ফ্ল্যাট ক্রেতা সব টাকা পরিশোধ করেছেন কিন্তু নিবন্ধন করেননি, তিনিই এই ঋণ পাবেন। তবে ফ্ল্যাটের মূল দলিল তোলার রসিদ এবং দলিলের সত্যায়িত কপি সংস্থায় জমা রাখতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   বাংলাদেশে যাত্রীবাহী গাড়ির কারখানা করতে চায় টাটা

বিএইচবিএফসির কর্মকর্তারা জানান, ফ্ল্যাট নিবন্ধন ঋণ নিতে গেলে আবেদনকারীর নিজের টাকা থাকাটা (ইক্যুইটি) জরুরি নয়। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংস্থাটির আইন কর্মকর্তারাই হিসাব করে দেবেন নিবন্ধনের খরচ কত আসবে।

তবে জরুরি অন্য একটি বিষয় আছে। বিএইচবিএফসি থেকে ঋণ নিয়ে যে ক্রেতা ফ্ল্যাট কিনেছেন, নিবন্ধন ঋণ নেওয়ার আগে ওই ক্রেতাকে একটি প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে বিএইচবিএফসির কাছে। যেখানে বিক্রেতা আবাসন প্রতিষ্ঠান এ মর্মে ক্রেতাকে সনদ দেবে যে ক্রেতার কাছে ওই আবাসন প্রতিষ্ঠানের আর কোনো পাওনা বাকি নেই। এ–সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র ছাড়া বিএইচবিএফসির নিবন্ধন ঋণ মিলবে না।

কেউ যদি নিজের টাকা দিয়েও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন করে ফেলেন, টাকার সংকট থাকলে তিনিও পাবেন এই ঋণ। এমনকি নিবন্ধনের দিনই আবেদনকারীকে এককালীন চেক দিয়ে দেবে বিএইচবিএফসি।

ফ্ল্যাট নিবন্ধন ঋণ চালুর কারণ জানতে চাইলে বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএইচবিএফসির আয়োজনে গত বছরের অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত গৃহায়ণ অর্থায়ন মেলায় অনেক ক্রেতা জানিয়েছিলেন, টাকার অভাবে তাঁরা ফ্ল্যাট নিবন্ধন করতে পারছেন না। একই কথা বলে আসছিল আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাব। রিহ্যাব থেকে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, টাকার অভাবে অন্তত ১০ হাজার ফ্ল্যাটের মালিক নিবন্ধন করতে পারছেন না। ঋণটি চালু করতে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’

জানতে চাইলে রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএইচবিএফসির ফ্ল্যাট নিবন্ধন ঋণ চালুর উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ফ্ল্যাট মালিকেরা এই ঋণ নিয়ে তাঁদের ফ্ল্যাটগুলো নিবন্ধন করতে পারবেন, যা প্রকারান্তরে আবাসন খাতের জন্য ইতিবাচক ফল আনবে।’

তবে ফ্ল্যাট ঋণের সুদের হার এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধন ঋণেরও সুদের হার আরও কমানো উচিত বলে মনে করেন লিয়াকত আলী ভুঁইয়া।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − thirteen =