রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে ১০ বছর লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উন মিয়াত আয়ে।

বুধবার জাপানের নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

এসময় মিয়াত আয়ে বলে, এ লক্ষ্যে নভেম্বর থেকে শুরু হতে পারে শরণার্থীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিদিন বড়জোর ১০০ থেকে ১৫০ জন রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়া হতে পারে। এই গতিতে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় একদশক লাগবে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে কমপক্ষে সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে।

রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তবে ঠিক কীভাবে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে তা নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ শেষ হচ্ছে না।

তবে উন মিয়াত আয়ে বলেন, যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে আসতে ইচ্ছুক এবং তাদের মধ্যে যাদের মিয়ানমারের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে, তাদেরই ফিরে আসার অনুমোদন দেওয়া হবে। যদিও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা কত তা আমরা জানি না।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে চাইলে সেক্ষেত্রে পরিচয়সংক্রান্ত নথিপত্রের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের কাছে থাকা নথিপত্রের মিল থাকতে হবে। আর যেসব রোহিঙ্গা তাদের পরিবার থেকে আলাদা হয়ে গেছে তাদের বাংলাদেশের কোনো আদালত থেকে একটি অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে। যারা তাদের পরিচয়পত্র হারিয়ে ফেলেছেন তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তবে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে তাদের সাবেক নাম, পিতা-মাতার নাম ও বাসস্থান সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। যদি মিয়ানমার সরকারের কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে ওই তথ্যের মিল থাকে, তাহলেই তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

three + 11 =