অম্লমধুর এক অভিজ্ঞতাই হলো নাঈম হাসানের। কুইন্সটাউনে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে ১৩১ রানে হেরে মন যতটা খারাপ ছিল, ম্যাচ শেষে তাঁকে ঠিক ততটাই মন ভালো করার সংবাদ দিলেন দলের ম্যানেজার দেবব্রত পাল।

সংবাদটা যেনতেন নয়, নাঈমের সামনে এখন আন্তর্জাতিক অভিষেকের হাতছানি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১৪ জনের যে দলটা দেওয়া হয়েছে সেখানে বড় চমক তিনি। এত বড় সুখবরে কাল দুপুরে নিউজিল্যান্ড থেকে মুঠোফোনে ১৭ বছর বয়সী অফ স্পিনারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হলো বেশ সংক্ষিপ্ত, ‘ভালো লাগছে।’

শুরুর দিকে যে প্রশ্নই করা হয় দু-এক শব্দে উত্তর। যখন জানতে চাওয়া হলো তাঁর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প, নাঈম খুলে দিলেন মনের জানালা। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বাড়ি। বাবা মাহবুবুল আলম ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। ফুটবলার বাবা স্বপ্ন দেখেছেন, ছেলে ক্রিকেটার হবে। পরিবার থেকে এমন সমর্থন পেলে স্বপ্নের কুঁড়িটা ডালপালা মেলবেই। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সীমানা পেরোনোর আগেই নাঈম সুযোগ পেয়ে গেলেন জাতীয় দলে।
নাঈমকে যে প্রশ্নটা প্রায়ই শুনতে হয়, ৬ ফুট উচ্চতা নিয়ে কেন তিনি স্পিনার? তাঁর উত্তরও তৈরি, ‘শুরুতে পেস বোলারই ছিলাম। অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট খেলার আগে চট্টগ্রামে আমার কোচ মঈন ভাইয়ের পরামর্শে স্পিনার হয়ে যাই। যখন স্পিন শুরু করলাম তখন এত লম্বা ছিলাম না।’

চারটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ৯ উইকেট। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলায় গত চার মাস লাল বলও হয়তো ধরা হয়নি। অথচ তাঁকে কিনা ডাকা হলো টেস্ট দলে! নাঈম অনেক দিন ধরেই ছিলেন নির্বাচকদের ভাবনায়। গত মার্চে ইমার্জিং কাপ খেলেছেন। ছিলেন বিসিবির হাইপারফরম্যান্স দলেও। গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে দুই দলে ভাগ হয়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল, সেটিতে ছিলেন তিনি। কত আগে বাংলাদেশ দলে এলেন, সেটি নাঈমের কাছে বিবেচ্য নয়। বরং কত দ্রুত তিনি এই আসাটাকে রাঙাতে পারেন, তরুণ অফ স্পিনারের ভাবনাজুড়ে সেটিই, ‘আমি আমার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করব। লক্ষ্য থাকবে ঠিক জায়গায় বোলিং করে ভালো কিছু করার।’

আরও পড়ুনঃ   আজ কে হাসবে শেষ হাসি?

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 17 =