নাগরিক সুবিধা বাড়াতেই নিবন্ধন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। বুধবার দুপুরে নিবন্ধন পরিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ তাদের প্রতিষ্ঠানকে অধিদপ্তরে উন্নীতকরণ উপলক্ষে আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে গেলে তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নিবন্ধন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহা-পরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নান, যুগ্ম সচিব মো. ঘাবিবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, নাগরিক সুবিধা বাড়াতে সরকার সকল জেলা ও উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসভবন নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৮টি জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ভবন এবং ২৩৩টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪তলা বিশিষ্ট ১৪টি জেলা রেজিস্ট্রি অফিসভবন এবং ২ ও ৩ তলা বিশিষ্ট ৯৮টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আর কোন জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারকে ভাড়া বাসায় অফিস করতে হবে না।
আনিসুল হক বলেন, বাংলাদশেে যে নতুন দনি আসছে সখোনে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বাড়বে। তারা উন্নত সেবা চাইবে। প্রশিক্ষণ ছাড়া সেই সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।
আইনমন্ত্রী নিবন্ধন পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তা বাস্তবায়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কর্মসূচি রয়েছে। প্রধান লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে দুর্নীতিমুক্ত জ্ঞানভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এর সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির অবদান নিশ্চিত করা। এই সব লক্ষ্য অর্জনে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ই-গর্ভনেন্স, ই-কমার্স, ই-লার্নিং, ই-শিক্ষা, ই-স্বাস্থ্য, ই-সেবা চালুর কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে নিবন্ধন পরিদপ্তরকে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। নিবন্ধন পরিদপ্তরেও সরকার ই-সেবা চালু করতে চায় এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আনিসুল হক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঔপনিবেশিক প্রাচীন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের সেবা করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। জনগণকে সেবা দিতে কোন কার্পণ্য করবেন না এবং অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের ত্রুটিমুক্ত সেবা প্রদান করবেন। নিবন্ধন পরিদপ্তর সম্পর্কে জনগণের যেন কোন দুঃখ, বেদনা বা নালিশ না থাকে তাও আপনারা নিশ্চিত করবেন।

আরও পড়ুনঃ   'রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো আন্তর্জাতিক ত্রাণ লুটপাটের সম্ভাবনা রয়েছে'

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight − six =