বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী গতকাল যে ভাষণ দিয়েছেন তা একতরফা ভাষণ। কেননা সংসদ যে অকার্যকর, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যে একটি ভোটবিহীন নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দিবে কি না বা সেনা মোতায়েন করা হবে কি না, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, সাগর-রুনির হত্যা বিচার, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করা হচ্ছে, এসব বিষয়ে আমরা কিছু শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এসব তার বক্তব্য বলেননি। সর্বোপরি তিনি তাঁর বক্তব্যে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দু:খের কোনো প্রতিফলন ঘটাতে পারে নি। সুতরাং তার ভাষণ একতরফা ভাষণ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের মেলা নয় দুর্নীতির মেলা চলছে বলে মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট আয়োজিত ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক প্রতিবাদী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
সরকারের উন্নয়নের মেলা প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, এটা উন্নয়নের মেলা নয়, এটা দুর্নীতির মেলা। প্রত্যেকটা উন্নয়নের পেছনে যে ব্যাপক দুর্নীতি, এই কথা সবাই জানে। আর উন্নয়নের নামে যে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনো ফিরিস্তি প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার বক্তব্যে দেননি। কারণ বড় বড় প্রকল্প মানে হলো বড় বড় কমিশন। আর বড় বড় কমিশন মানে হলো বড় বড় ঘুষ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশের প্রয়োজন, সে কথা গতকাল প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন নাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা প্রত্যাশা করি, সকল কিছুর উর্দ্ধে উঠে জনগণের যে ইচ্ছা তার প্রতিফলন ঘটাবেন। তিনি সকল মানুষ জন্য এমন পরিবেশন তৈরি করবেন যাতে সবাই তাকে বাহবা দিতে পারে। আমরা আজকে তাকে অভিনন্দন জানাতাম। যদি তিনি তার ভাষণে একটি নির্দলীয় ও একটি নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা দিতেন।
নির্বাচনকালীন একটি সরকার গঠন করা হবে প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য কোনো সরকার গঠন ও কোনো ব্যবস্থা বর্তমান সংবিধানে নেই। সুতরাং এই কথা বলে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। মূলত দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে, এই কথাটাই প্রধানমন্ত্রী বলার চেষ্টা করেছেন।
কি করে নির্বাচন হবে-এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, একটি দল নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে গেছে। আর আমাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্য দেওয়ার ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের আসল চিত্র তুলে ধরেননি। তিনি তার সরকারের উন্নয়নের কথা বলেছেন এবং বিরোধী দলকে কিভাবে আঘাত করা যায়, সেভাবেই তিনি বক্তব্যে দিয়েছেন।
কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি মন্তব্য করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, কখন যে কে গ্রেফতার হয় তার কোনো হিসেব নেই। কিন্তু আমাদের কোনো উপায় নাই, আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, বিচারবিভাগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সুতরাং আমাদের ওপর যতই নির্যাতন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হোক না কেনো, কোনো কিছুই আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুনঃ   সরকারি চাকরিতে ঢোকার আগে প্রার্থীদের মাদক পরীক্ষা করতে হবে

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − nine =