আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে না হয় ক্ষমতাসীন সরকার সেই চেষ্টা করছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট করেই বলেছি, আমরা নির্বাচনকালে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। সমান সুযোগ চাই। নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার চাই। কারণ ইতিমধ্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে এই সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর আগে দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকবৃন্দ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে এরা শতভাবে চেষ্টা করছে এই নির্বাচন যেন না হয়। তারা জানে সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এই সরকার কখনই আবার নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবে না। সে জন্য, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান ছিল, আওয়ামী লীগের দাবিতে সে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিলাম, তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আজকে তারা দলীয় সরকারের অধীনে জোর দিয়ে নির্বাচন করছে। জোর করেই করছে এবং বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। জনগণের ভোট দেওয়ার যে ন্যূনতম অধিকার, তাও কেড়ে নিয়েছে। আজকে কথা বলা, লেখার ও সংগঠন করার সুযোগ নাই। রাস্তায় বের হওয়ার সুযোগ নাই। এমনকি খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আমাদের দলের তরুণেরা যখন তাকে আদালতে নিয়ে যায়, নিয়ে আসে, তখন ৫০-৬০/১০০ জন নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়। তাই আমাদের এই কথা মনে রাখতে হবে যে আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। খালেদা জিয়া আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারেক রহমান সুদূরে নির্বাসিত থেকে নেতৃত্বে আছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত করা হচ্ছে। প্রতিদিন সারা দেশে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, মিথ্য মামলা দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্য মামলা দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত হচ্ছে। তারেক রহমানকেও মিথ্য মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া এ দেশের জনগণ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। সরকার যতই নির্যাতন করুক, গ্রেফতার করুক, হত্যা-গুম করুক, এ দেশের মানুষকে তাদের যে চাওয়া নিরপেক্ষ সরকারের দাবি তা থেকে সরাতে পারবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাবিতে যা ঘটেছে তা আওয়ামী লীগের চরিত্র। এটা ছাত্রলীগের নতুন কিছু ব্যাপার নয়। তারা বহুবার শিক্ষকদের মেরেছে, ছাত্রদের মেরেছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল যে অথরিটি আছে তারা যখন তাদের (ছাত্রলীগ) বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তখনই তারা হাতিয়ার নিয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর আক্রমণ করেছে। আজকে দেশে সমাজে রাষ্ট্রে তারা জোর করে ক্ষমতা দখলে রাখতে চায়। কিন্তু তারা তা পারবে না। এর অবসান হবেই। এ দেশের মানুষ নি:সন্দেহে তাদের পরাজিত করবে।

আরও পড়ুনঃ   'বিএনপির খুশির স্রোতে অচিরেই ভাটা পড়বে'

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − five =