নু ক্যাম্পে ম্যাচের তখন ৬৮ মিনিট। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে তুলে আর্নেস্তো ভালভার্দে মাঠে নামালেন ফিলিপ কুতিনহোকে। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি ফুটবলার! ব্রাজিলিয়ান এ মিডফিল্ডার বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন জানুয়ারির শুরুতে। ঊরুর চোটে দেরি হচ্ছিল মাঠে নামতে। গতকাল রাতে কোপা ডেল রে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে বার্সার হয়ে অভিষেকেই আলো ছড়িয়েছেন কুতিনহো।

সাবেক ক্লাব এস্পানিওলের বিপক্ষে ২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন ১৪ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড মূল্যের এই মিডফিল্ডার। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে ‘নাটমেগ’ (দুই পায়ের মধ্যে দিয়ে বল নেওয়া) করে শুরুতেই নজর কাড়েন সমর্থকদের। এ ছাড়া দারুণ কিছু পাসও দিয়েছেন লিওনেল মেসি-লুই সুয়ারেজদের। মোট ২৪টি সফল পাস আর দুটি গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন কুতিনহো।

তাঁর এমন একটি পাস থেকেই গোল করতে ব্যর্থ হন সুয়ারেজ। ম্যাচ শেষে নতুন সতীর্থের উদ্দেশে উরুগুয়ে স্ট্রাইকারটির টুইট, ‘সেমিফাইনাল! অভিষেকের জন্য অভিনন্দন। আশা করি পরেরবার গোল করতে পারব।’ সুয়ারেজ এ ম্যাচে যে গোল পাননি, তা নয়। ২৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর ও মেসির গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সার হাতে। এস্পানিওল নিজেদের মাঠে প্রথম লেগ ১-০ গোলে জিতলেও তাই লাভ হয়নি। দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে বার্সাই উঠেছে সেমিফাইনালে।

৯ মিনিটে হেড থেকে গোল করেন সুয়ারেজ। এর ১৬ মিনিট পর ডিফেন্ডারদের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন মেসি। ১৯৫৭ সালে নু ক্যাম্পের যাত্রা শুরুর পর স্টেডিয়ামটির ইতিহাসে এটা ছিল ৪০০০তম গোল! এর মধ্যে ৭.৭ শতাংশ গোল মেসির। ‘অ্যাসিস্ট’ ও গোল হিসাব করলে ১০ শতাংশ। নু ক্যাম্পে মেসির খেলা ২৯৬টি অফিশিয়াল ম্যাচের মধ্যে ২৪৩ ম্যাচেই জিতেছে বার্সা।

ম্যাচ শুরুর আগে হ্যাভিয়ের মাচেরানোকে বিদায় জানিয়েছেন বার্সা সমর্থকেরা। বার্সা ছেড়ে চীনের হেবেই ফরচুনে যোগ দিয়েছেন এ আর্জেন্টাইন। ২০১০ সালে নু ক্যাম্পে আসার পর বার্সার অনেক সাফল্যের এ সেনানীকে গার্ড অব অনার দিয়েছেন মেসি-সুয়ারেজরা। সন্তানদের নিয়ে মাঠে ঢুকে সমর্থকদের বিদায় জানানোর পর ম্যাচটি দেখেছেন ৩৩ বছর বয়সী এ সেন্টার ব্যাক। কুতিনহো যখন তাঁর ১৪ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছেন, তখন মাচেরানোর কেমন লেগেছে কে জানে!

আরও পড়ুনঃ   আর্জেন্টিনা ছাড়া ‘পানসে লাগবে’ বিশ্বকাপ

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − one =