এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনার পর রীমা কনভেনশন সেন্টারের প্রবেশ পথের সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। নগর পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কাজ শুরু করা হয় বলে জানান কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর আসকারদিঘির পাড়ে অবস্থিত ওই কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, রীমার কনভেনশন সেন্টারের যে ফটকে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেই প্রবেশ পথে দেয়া আরসিসি ঢালাইয়ের ওপর পানি ঢালছেন একজন শ্রমিক।
এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে কাজ তদারকি করছেন কমিউনিটি সেন্টারের মালিক সাহাব উদ্দিন। কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার আব্দুল মান্নানও এ সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন।
সাহাব উদ্দিন বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের একটা ড্রয়িং দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সংস্কার কাজ করতে বলা হয়েছে।

পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রবেশ পথের সংস্কার কাজ শুরু করেছি।
তিনি বলেন, সোমবার বিকেল থেকে ১৫-১৬ জন শ্রমিক নিয়ে আমরা সংস্কার কাজ শুরু করি। প্রকৌশলীর নতুন নকশা অনুযায়ী আমরা ফটকের নিচে যে ঢালু পথটি ছিল সেটি প্রায় দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু করেছি। এর পাশে দুই ফুট উঁচু ইটের দেয়াল দেয়া হবে। সেখানে থাকবে স্টিলের বেড়া। আর সব কাজ শেষ করতে চার-পাঁচ দিন সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, সংস্কার শেষ হওয়ার পর আমরা আবার অনুষ্ঠানের বুকিং নিতে পারবো। তখন এখানে প্রোগ্রাম আয়োজনে কোনও বাধা থাকবে না।
কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, পুলিশের করা ড্রয়িংয়ের আগে ঢালু পথটি অনেকটা খাড়া ছিল। এখন সেটি দীর্ঘায়িত করে ঢালটি কমাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবেশপথের ডানপাশে তিন ফুট উঁচুু দেয়াল তুলে দিতে বলা হয়েছে। দু‘জন ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতিতে আমরা পুলিশের ড্রয়িং অনুযায়ী সংস্কার কাজ করছি।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেন বলেন, আমাদের তদন্ত প্রতিবেদনে কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথের নির্মাণ ত্রুটির বিষয়টি ওঠে আসে। সে কারণে আমরা কমিউনিটি সেন্টারের মালিককে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের সহায়তায় ত্রুটি অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছি। তারা আমাদের নির্দেশনায় কাজ শুরু করেছে। ত্রুটি অপসারণের পর ওই কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে আর বাধা থাকবে না।
গত ১৮ই ডিসেম্বর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে অংশ নিতে গিয়ে এই কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথে পদদলিত হয়ে নিহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ওইদিন থেকে কমিউনিটি সেন্টারটিতে অনুষ্ঠান আয়োজন সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় পুলিশ।
এই ঘটনায় ওইদিন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। এই কমিটি গত ২১শে ডিসেম্বর পুলিশ কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে ওই দুর্ঘটনার জন্য তিনটি কারণকে দায়ী করা হয়। এরমধ্যে কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথের নির্মাণ ত্রুটিকে একটি হিসেবে দেখানো হয়। অন্য দুটি কারণ হলো, অতিরিক্ত ভিড় ও অব্যবস্থাপনা।

আরও পড়ুনঃ   হাসপাতালে মহিউদ্দিনকে দেখতে গেলেন মেয়র নাছির

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × two =