দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতু। আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে সেতুর প্রথম স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানো হবে।

এই স্প্যান বসানো হলে পুরো সেতুটি দেখতে কেমন হবে তা বুঝতে পারবে সাধারণ মানুষ। আজ ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর বসবে এ স্প্যান। তাই স্প্যানগুলোকে ধূসর রং করা হয়েছে। এর পর এক এক করে উঠতে থাকবে পিলার, আর পিলারের ওপর স্প্যান স্থাপনের মধ্যে দিয়ে বাড়তে থাকবে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য। মোট ৪২টি স্প্যান বসানো হলে শেষ হবে পুরো সেতুর কাজ। প্রথম স্প্যান বসানোর খবরে  এখন সেতু এলাকার জনগণের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

পদ্মা সেতুর সুপার স্ট্রাকচারবাহী ‘তিয়ান ই হাউ’ ভাসমান ক্রেন জাহাজ ইতিমধ্যে পৌঁছেছে জাজিরা প্রান্তে। স্প্যানটি এখন ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের পাশে রাখা আছে। সোমবার দুপুরে এটি সেখানে পৌঁছে।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ ওয়ার্কশপ থেকে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় জাহাজটি প্রায় তিন হাজার ২০০ টন ওজনের ৭বি নম্বর স্প্যানটি (সুপার স্ট্রাকচার) নিয়ে সেতুর ২৩ নম্বর পিলারের (খুঁটি) কাছাকাছি নোঙর করেছিল। সোমবার সকালে রওনা হয়ে আরো প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছে যায় দুপুরে। আজ স্প্যানটি পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে স্থাপন করার কথা রয়েছে। প্রথমে এটি অস্থায়ী বেয়ারিংয়ে বসানো হবে। পরে স্থায়ী বেয়ারিংয়ে স্থাপন করা হবে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে তিন হাজার ২০০ টন ওজনের একটি স্প্যান ভাসমান ক্রেনে ওঠানোর কাজ শুরু হয়। রেললাইনের মতো বিশেষ ক্রেনলাইনে করে এটি ওয়ার্কশপ থেকে নদীতীরে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় সেটি ভাসমান ক্রেনে তোলা সম্ভব হয়। দিনভর বিশাল এ স্প্যান তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন বিশেষ কর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রথম স্প্যানটি স্থাপনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্যান্য স্প্যানও ওঠানো শুরু হবে। এখন ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পিলার সম্পন্ন পর্যায়ে। ৩৯ নম্বর পিলারে খুঁটি উঠছে। ৪০ নম্বর পিলারের পাইলের ওপর বেজ ঢালাই চলছে, ৪১ নম্বর পিলারের পাঁচটি পাইল বসেছে। বাকি পাইলটিও এখন বসানোর কাজ চলছে। ৪১ নম্বর পাইল বসাতে গিয়েই কয়েকবার হ্যামার বিকল হয়। তবে সব চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার পর এখন ৪১ নম্বর পিলারও সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া তীরের ৪২ নম্বর পিলারে পাইলের ওপর বেজ করা হচ্ছে।

জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের কাজ ১৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। গত শনিবার এই দুই পিলার থেকে শাটার খোলা শুরু হয়। রবিবার তা শেষ হয়েছে। তাই পদ্মা সেতুর পিলার এখন পরিপূর্ণভাবে দেখা যাচ্ছে। দুই পিলারের ওপর যে স্প্যান বসানো হবে তার কাজও শেষ পর্যায়ে এখন। এর পরই শেষ হবে ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের কাজ। এ চারটি পিলারের ওপর তিনটি স্প্যান বসবে। স্প্যানের মাঝ বরাবর নিচের লেনে চলবে ট্রেন। ওপরে কংক্রিটের চার লেনের সড়কে চলবে গাড়ি।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৪৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুতে মোট ৪২টি পিলার থাকবে। এর মধ্যে ৪০টি পিলার নির্মাণ করা হবে নদীতে, দুটি হবে নদীর তীরে। নদীতে নির্মাণ করা প্রতিটি পিলারে ছয়টি করে পাইলিং করা হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ১২৭ মিটার পর্যন্ত। একটি পিলার থেকে আরেকটির দূরত্ব ১৫০ মিটার। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগামী বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকৌশলীরা জানান, নদীতে মূল সেতুর এখন ৫৫টি পাইল সম্পন্ন হয়ে গেছে। বটম অবস্থায় রয়েছে আরো ২২টি পাইল। এ ছাড়া জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সেতুর ১৭৮টি পাইল বসেছে। এখানে আর ১৫টি পাইল বাকি সংযোগ সেতুর (ভয়াডাক্ট) জন্য। আর মাওয়ায় এ পর্যন্ত সংযোগ সেতুর পাঁচটি পাইল বসেছে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine − three =