বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি আন্তর্জাতিক একাউন্টিং ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের যে অংকের কথা বলা হয়, তা যে সুনির্দিষ্টভাবে অথেনটিক তা বলা যাবে না।পূর্বে যে অর্থপাচার হয়েছে তা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিছু কাজ করেছে, এখনও করছে। অর্থপাচারের তথ্য সংগ্রহের জন্য এনবিআর থেকে একটি আন্তর্জাতিক একাউন্টিং ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি।যাতে তারা বাইরে যদি অর্থপাচার হয়ে থাকে সেসব তথ্য যেন সংগ্রহ করতে পারে।’এই একাউন্টিং ফার্ম অর্থপাচার নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজ করে বলে তিনি জানান।
রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন সম্মেলনকক্ষে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে এনবিআরের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
সমঝোতা স্মারকে এনবিআরের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) এস এম আশফাক হুসেন এবং বিএফআইইউ উপ-প্রধান মো. মিজানুর রহমান জোদ্দার নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিএফআইইউ প্রধান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসানসহ এনবিআরের সদস্য এবং বিএফআইইউ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন,মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধ কার্যক্রম শক্তিশালী এবং তথ্য আদান-প্রদানে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বিএফআইইউয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হলো। এর ফলে ব্যাংকগুলোর নিকট থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া সহজতর হবে এবং বিএফআইইউও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর সংক্রান্ত তথ্যাদি সহজে পাবেন।
তিনি বলেন,বিএফআইইউ অর্থপাচার তদন্তের কাজ শুরু করেছে। তারা যখন পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করবে তখন তাদের সক্ষমতা আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএফআইইউ প্রধান রাজী হাসান বলেন,অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে পুলিশ,দুদক,এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে আমাদের কার্যক্রম জোরদার করেছি। সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্ট ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। পাচার হওয়া একটি মামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে টাকা ফেরত আনা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে অর্থপাচারের ঘটনায় দুদকের ৩২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
রাজী হাসান বলেন,সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশী নাগরিকদের অর্থ জমার যে হিসাব দেওয়া হয়,তার মাত্র ৭ শতাংশ দেশে যারা বসবাস করে তাদের।আমরা দেখেছি-এই অর্থের বড় অংশ বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীদের।
এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়,২০০৫-১৪ মেয়াদে বাংলাদেশ থেকে ৬১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থপাচার হয়েছে।
মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে বিএফআইইউ পর্যায়ক্রমে দুদক ও পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে।

আরও পড়ুনঃ   সোনার দাম কমছে

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − 2 =